প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের আকস্মিক পিছুটান: যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে?
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বহু চেষ্টা সত্ত্বেও রণকৌশলে ইরানকে পরাস্ত করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়ে এখন সুর নরম করেছেন ট্রাম্প। তিনি তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ থাকলেও তিনি এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ আর টেনে নিতে চান না।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে যে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে গেলে যুদ্ধটি তাদের নির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা ছাড়িয়ে যাবে, যা বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের বর্তমান পরিকল্পনা হলো—ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জিত হলে সংঘাত ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। এরপর সরাসরি যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে এই প্রণালি খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে; তাদের মতে, প্রণালিটি বন্ধ রেখে যুদ্ধ শেষ করা মানে কার্যত ইরানের কাছে নতি স্বীকার করা।উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হওয়া এই হরমুজ প্রণালিটি ইরান মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে গত এক মাস ধরে বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। যদিও ট্রাম্প আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রণালি না খুললে ইরানের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন, তবে বর্তমান নমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বড় কোনো স্থল অভিযান এড়াতে চাইছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব অর্থনীতি এই ধাক্কা সামলে কীভাবে স্থিতিশীলতায় ফেরে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ