প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের বড় কৌশল বদল: যুদ্ধ শেষের পথ খুঁজছে হোয়াইট হাউস
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে এক আকস্মিক ও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করতে আগ্রহী। ট্রাম্পের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো দীর্ঘমেয়াদী কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে চাইছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ও তার যুদ্ধকালীন উপদেষ্টারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার অভিযানে নামলে যুদ্ধটি ট্রাম্পের নির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই বর্তমানে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হচ্ছে—প্রথম পর্যায়ে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধ্বংস করে দেশটির সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। এরপর সরাসরি যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ দিতে বাধ্য করা। এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ দেবে, যাতে তারা এই জলপথ পুনরায় খোলার দায়িত্ব কাঁধে নেয়।তবে ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও, সমান্তরালভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করছেন। গত সপ্তাহে এই অঞ্চলে বিশেষ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি ও ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট প্রবেশ করেছে। এছাড়া ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যাপক সামরিক সমাবেশ সম্ভবত ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার একটি ‘চরম চাপ’ (Maximum Pressure) কৌশলের অংশ। এখন দেখার বিষয়, ৬ এপ্রিলের সময়সীমার আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই স্নায়ুযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ