প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
সেনবাগে অর্থাভাবে শিকলবন্দি যুবকের করুণ জীবনযাপন
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জিরুয়া গ্রামের দিনমজুর মো. হানিফ মিয়ার বড় ছেলে ৩৮ বছরের যুবক আবুল হোসেন মামুন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অন্ধকার ঘরের কোণে পায়ে লোহার শিকল আর তালাবদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে অসহায় পরিবার তাকে এভাবে বন্দি করে রেখেছে এবং তার এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণে স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে অন্যত্র সংসার করছেন।স্থানীয় প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামুন একসময় সাধারণ ছেলেদের মতোই মেধাবী ও চঞ্চল ছিলেন এবং ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। প্রায় ১৫ বছর আগে হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই হিংস্র হয়ে ওঠা, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা এবং মানুষকে আঘাত করার প্রবণতা তৈরি হওয়ায় পরিবার প্রথমদিকে সাধ্যমতো কবিরাজি ও প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। তবে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং মামুন বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়াসহ প্রতিবেশীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ানোয় বাধ্য হয়ে তার পায়ে শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়।টিনের চালের এক কোণায় বন্দি থাকা মামুনের মা রেশমা আক্তার কহিনুর জানান, ছেড়ে দিলে মানুষের ক্ষতি করে এবং বাইরে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় বলে বাধ্য হয়ে তারা ছেলেকে বেঁধে রেখেছেন, যদিও ডাক্তার দেখানোর মতো কোনো সামর্থ্য তাদের নেই। বাবা হানিফ মিয়া উল্লেখ করেন, কোনো ভালো মানসিক হাসপাতালে নিয়ে সুচিকিৎসা দেওয়া হলে হয়তো মামুন সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারত এবং এ জন্য তিনি এলাকাবাসী, সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপনাস চন্দ্র দাস জানান, তিনি মাত্র কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করে মামুনের বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলেছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, মামুনকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ