প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার আরও ৫৪ জন দেশে ফিরেছেন
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে গতকাল আরও ৩৭ জন ফিরেছিলেন, যার ফলে গত দুই দিনে মোট ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা করেছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্কাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী জানান, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফ্লাইট হওয়ার পর তিনি কম্বোডিয়া পৌঁছালে রবিন শেখ নামের এক বাংলাদেশি দালাল তাকে রিসিভ করেন এবং পরে কম্পিউটারের কাজের কথা বলে ২৩ ডিসেম্বর একটি স্ক্যাম প্ল্যাটফর্মে কাজ দেন। কাজ করতে না চাইলে জানা যায়, তাকে ২০৮৫ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা না দিলে পাসপোর্ট দেওয়া হবে না।আরেক ভুক্তভোগী জানান, সেদেশে থাকা এক বিবাহিত বাংলাদেশি দালাল তাকে সুপারশপে চাকরির কথা বলে নিয়ে ৫ মাস কাজ করান এবং পরে অন্য কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে স্কাম সেন্টারে বিক্রি করে দেন। এসব কম্পাউন্ডে ভুক্তভোগীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্কাম কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আট জন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়েছিল, যেখানে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগি পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরপর দুদিনে ৯১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুল সংখ্যক মানুষ এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার। তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের একটি ভয়াবহ ধরন, যেখানে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কাজ করানো হয়। এ কারণে সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে একাধিকবার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ