প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
রোনালদোর অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন ও এশিয়ার ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
২০০২ সালের ৩০ জুন জাপানের ইয়োকোহামা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জার্মানিকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যৌথভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে আয়োজিত এই আসরটি ফুটবলের ভৌগোলিক সীমা ভেঙে এশিয়ার আত্মপ্রকাশের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল। প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলার অনন্য সমন্বয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি একদিকে যেমন ছিল তৎকালীন ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা উদ্বেগের এক বড় পরীক্ষা, অন্যদিকে তেমনি ছিল বড় দলগুলোর পতন আর নবাগতদের অবিশ্বাস্য অঘটনের সাক্ষী।এই আসরটি মূলত ব্রাজিলের তারকা স্ট্রাইকার রোনালদোর চোট কাটিয়ে রাজা হিসেবে ফিরে আসার এবং ফুটবল বিশ্বে 'থ্রি আর' (রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনিও) ত্রয়ীর আধিপত্য বিস্তারের গল্প। ১৯৯৮ সালের ফাইনালের রহস্যময় অসুস্থতা ও পরবর্তীতে ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী হাঁটুর ইনজুরি কাটিয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটসহ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন রোনালদো। ফাইনাল ম্যাচে জার্মানির অপরাজেয় প্রাচীর ও পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা গোলরক্ষক অলিভার কানকে পরাস্ত করে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি অনবদ্য গোল করে নিজের অসমাপ্ত রূপকথা সম্পূর্ণ করেন তিনি, যা ব্যথার বিরুদ্ধে মানুষের আত্মবিশ্বাসের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স নবাগত আফ্রিকার দেশ সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিলে টুর্নামেন্টে অঘটনের মহাযাত্রা শুরু হয়। পুরো গ্রুপ পর্বে একটিও গোল করতে না পারা ফ্রান্সের সাথে ফেভারিট আর্জেন্টিনা ও লুইস ফিগোর পর্তুগালও প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। বিপরীতে গাস হিডিঙ্কের অধীনে দক্ষিণ কোরিয়ার 'রেড ডেভিলস'রা নিজেদের মাঠে ইতালি ও স্পেনকে রেফারিং বিতর্কের ম্যাচে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে।নকআউট পর্বের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বনাম ব্রাজিলের মধ্যকার ম্যাচটি ডেভিড সিম্যানকে পরাস্ত করা রোনালদিনিওর প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই জাদুকরী ও বিস্ময়কর ফ্রি-কিকের গোলের জন্য আজও ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সেমিফাইনালে তুরস্ককে হারিয়ে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে থামিয়ে জার্মানি ফাইনালে পৌঁছালে বিশ্ববাসী প্রথমবারের মতো ফাইনালে দুই পরাশক্তির ঐতিহাসিক লড়াই দেখার সুযোগ পায়। সব মিলিয়ে সেনেগালের অদম্য সাহস, দক্ষিণ কোরিয়ার রূপকথা ও অলিভার কানের বীরত্বের বিপরীতে রোনালদোর অন্ধকার সময় পার করে ট্রফি জয়ের হাসিতেই সমাপ্তি ঘটেছিল ২০০২ সালের এশিয়ান মহাকাব্যের।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ