প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার মাস্কের সাধারণ জীবনযাপন
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে অবিশ্বাস্য এই সম্পদের মালিক হয়েও মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনযাপন বেশ সাধারণ।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্পেসএক্সের আইপিওতে ৫৫ কোটিরও বেশি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে বিক্রি হয়। এতে কোম্পানিটি ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এবং এর বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। পরদিন শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ১৬২ ডলারে পৌঁছালে স্পেসএক্স ও টেসলাতে থাকা মাস্কের শেয়ারের মূল্য হিসাব করে তার মোট সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি দাঁড়ায়।অগাধ সম্পদের মালিক হলেও মাস্কের প্রধান বাসস্থান একটি ছোট প্রিফ্যাব বা পূর্বনির্মিত বাড়ি। ২০২০ সালে টেক্সাসে চলে যাওয়ার পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বেশিরভাগ বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করে দেন। যদিও অস্টিনের কাছে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের কয়েকটি সম্পত্তি তিনি কিনেছেন, তবুও তার মূল বাসস্থান হলো টেক্সাসের বোকা চিকা এলাকায় স্পেসএক্সের স্টারবেস কেন্দ্রের কাছে একটি ছোট বাড়ি। ২০২১ সালে মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে তার প্রধান বাসা মূলত ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়ি, যা তিনি স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন এবং এটি দারুণ।আবাসন স্টার্টআপ ‘বক্সঅ্যাবল’ এর তৈরি করা এই বাড়িটির আয়তন মাত্র ২০ ফুট × ২০ ফুট। ছোট হলেও এতে বসার জায়গা, শোবার ঘর, রান্নাঘর এবং গোসলখানার ব্যবস্থা রয়েছে। এই সাধারণ বাড়ির বিপরীতে মাস্ক-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মালিকানায় অস্টিনের অভিজাত ওয়েস্ট লেক হিলস এলাকায় একাধিক বড় বাড়ি রয়েছে, যেগুলোর আয়তন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার বর্গফুট এবং সেখানে সুইমিং পুলও আছে।মাস্ক বরাবরই নিজের কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। ২০২৩ সালে তার জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন বাড়িটির ভেতরের ছবি প্রকাশ করেন এবং এটিকে অত্যন্ত সাধারণ দুই বেডরুমের বাড়ি বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, মাস্ক সেখানে একটি কাঠের টেবিলে বসে নিয়মিত ফোনকল ও কাজ করতেন।মাস্কের মা মায়ে মাস্ক চলতি বছর ছেলের বাড়িতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, ফ্রিজে কোনো খাবার ছিল না এবং তিনি গ্যারেজে ঘুমিয়েছিলেন। বাথরুমে মাত্র একটি তোয়ালে থাকায় সেটি তিনি ইলনের জন্য রেখে দিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ছোটবেলায় তিনি কালাহারি মরুভূমিতে টানা তিন সপ্তাহ গোসল এবং পানি ছাড়া কাটিয়েছেন, তাই সম্ভবত তার বাবা-মা তাকে এই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত করেছিলেন।মাস্কের এই জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পরও ইলন মাস্ক সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন এবং তার অর্থসম্পদ নিয়ে যারা ক্ষুব্ধ, তারা হয়তো শুধু ঈর্ষান্বিত। আরেকজন মন্তব্য করেন, তিনি চান এমন মানুষই ট্রিলিয়নিয়ার হোক যে নিজের সম্পদ প্রদর্শন করে না এবং যার মোট সম্পদের ৯৯ শতাংশেরও বেশি কোম্পানির পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত।তবে সবাই এই বক্তব্যের সাথে একমত নন। এক রেডিট ব্যবহারকারী দাবি করেন, মাস্কের এই সাধারণ জীবনযাপনের চিত্র মূলত জনসাধারণের কাছাকাছি মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার একটি কৌশল। তার মতে, বাস্তবে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা ধরে রেখে তিনি বিপুল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেন, যদিও অনেকেই তাকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ