প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
বাণিজ্যিক কূটনীতিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, একতরফা বাণিজ্য সুবিধা বা সহায়তার পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেই এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক কূটনীতিকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।রোববার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। অ্যামচ্যামের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি হিসেবে মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বমানের সেরা চর্চা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর পরিশোধের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যামচ্যাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে দূতাবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার এখন বাণিজ্যিক কূটনীতি, যার মূল লক্ষ্য হলো ন্যায্যতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা। এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রতি একটি আস্থার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশীয় ব্যবসায়ীদের এই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির ওপর জোর দেন।তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের এই সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং সুরক্ষাবাদী নীতির বাধা দূর করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারে পরিণত হতে পারে।অ্যামচ্যামের নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল জানান, সংগঠনটির প্রায় ২৫০ জন সদস্য দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বে রয়েছেন। বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ২২০ বছরেরও বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে কাজ করবে অ্যামচ্যাম।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ