প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার (১৪ জুন) যৌথভাবে এই বড় ঘোষণা দেন, যা একই সাথে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও সম্প্রচার করা হয়।চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লেখেন:“ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ। সবাইকে অভিনন্দন! আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজসমূহ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহিত হতে দাও!”ট্রাম্পের এই ঘোষণার ঠিক কয়েক মিনিট আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানান যে, নিবিড় আলোচনার পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, উভয় পক্ষই লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর আগামী শুক্রবারপ্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। হোয়াইট হাউজ বর্তমানে চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চুক্তিটি হয়তো তিনি নিজে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করবেন অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করবেন।নৌ-অবরোধের অবসান ও যুদ্ধবিরতিইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে নিশ্চিত করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান ঘটছে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০% তেল পরিবাহিত হয়) নিয়ে বিরোধের জেরে মাঝেমধ্যেই উভয় পক্ষ হামলা চালিয়ে আসছিল, যার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এই চুক্তির মাধ্যমে।লেবানন পরিস্থিতি ও ইসরাইলের অবস্থানচুক্তি ঘোষণার দিনই ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যাতে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই হামলার সমালোচনা করে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, “এই বিশেষ দিনে যখন আমরা শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি, তখন এই হামলা হওয়া উচিত হয়নি। সব পক্ষেরই এখন ক্ষান্ত হওয়া উচিত।” তবে এই বিষয়ে ইসরাইলি নেতৃত্বের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতিমানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আঞ্চলিক যুদ্ধে এ পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে:অঞ্চল/দেশনিহতের সংখ্যাবিবরণইরান৩,৬০০+ জন১৭০০ জন বেসামরিক নাগরিকসহলেবানন৩,৭০০+ জনসামগ্রিক নিহতের সংখ্যাউপসাগরীয় দেশসমূহ৩৬ জনসামরিক সদস্যইসরাইল২০ জনসামরিক সদস্যযুক্তরাষ্ট্র১৫ জন১৩ জন সরাসরি যুদ্ধে এবং ২ জন অন্যান্য কারণেএই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে তেলের বিশ্ববাজারে দ্রুত স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ