প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
হাম ও চিকেন পক্স চেনার সহজ উপায়
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যায়। শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ির মতো একই রকম উপসর্গ দেখা দেওয়ায় অভিভাবকেরা অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান যে শিশুটি আসলে হামে আক্রান্ত নাকি চিকেন পক্সে। তবে একটু সতর্কতার সাথে খেয়াল করলে ক্লিনিক্যাল তথ্যের আলোকে এই দুই রোগের তফাত সহজে চেনা সম্ভব।হাম ‘রুবেওলা’ ভাইরাসের কারণে হওয়া একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা প্রথমে শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭ থেকে ১৪ দিন পর শুরুতে তীব্র শুষ্ক কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার সঙ্গে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চ জ্বর হতে পারে। জ্বর ও কাশির ২-৩ দিন পর প্রথম লক্ষণ হিসেবে মুখের ভেতর গালের অংশে ছোট ছোট সাদাটে ‘কোপলিক স্পট’ দেখা যায়। এর ৩-৫ দিন পর ত্বকে লালচে বা বাদামি রঙের সামান্য উঁচু ফুসকুড়ি প্রথমে মুখ, ঘাড় ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৫-৬ দিন পর তা কমতে শুরু করে।অন্যদিকে, চিকেন পক্স ‘ভেরিসেলা-জোস্টার’ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে বা ফুসকুড়ির তরল সরাসরি স্পর্শ করলে ছড়ায়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, মাথাব্যথা ও শীত শীত ভাবের ১-২ দিনের মধ্যেই সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই ফুসকুড়িগুলো কেবল লালচে দাগ নয়, বরং খুব দ্রুত পানি বা পুঁজে ভর্তি টসটসে ফোঁস্কায় পরিণত হয় এবং এতে মারাত্মক চুলকানি থাকে। এই দানাগুলো প্রথমে পেট ও পিঠে দেখা দিয়ে পরে সারা শরীরে ছড়ায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—রোগীর শরীরে একই সময়ে নতুন ও পুরনো বিভিন্ন পর্যায়ের ফুসকুড়ি বা শুকিয়ে যাওয়া খোসা একসঙ্গে দেখা যেতে পারে।জ্বর ও ত্বকে দানা হলেই তা হাম বা পক্স নাও হতে পারে, কারণ এই সময়ে আরও কিছু রোগ একই রকম উপসর্গ নিয়ে দেখা দিতে পারে। যেমন—রুবেলা রোগে কানের পাশে ও গলার লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায় এবং হালকা লাল দানা ৩ দিনে মিলিয়ে যায়; হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজে মুখের ভেতরে ঘা এবং হাতের তালু ও পায়ের পাতায় ফোসকার মতো দানা ওঠে; ডেঙ্গুতে তীব্র জ্বরের ২-৩ দিন পর ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা দেখা দেয় এবং মেনিনগোকক্কেমিয়া নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক রোগে তীব্র জ্বর ও বমির সাথে ত্বকে লাল, বেগুনি বা বাদামি রঙের ছোপ দেখা দেয়।হাম ও চিকেনপক্স উভয় রোগই সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়। তবে সঠিক যত্ন না নিলে হামের কারণে কান পাকা, তীব্র ডায়রিয়া, অন্ধত্ব, নিউমোনিয়া এবং এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা হতে পারে, যা শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। উভয় রোগের জন্যই নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই; রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে এবং জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া যাবে। তবে ভাইরাল অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ভুলেও অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না এবং হামের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে দুই দিন ভিটামিন এ সম্পূরক খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।হামের কারণে যদি শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, প্রচণ্ড জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা হৃদরোগের আক্রমণের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসার যত্ন নেওয়া জরুরি। হাম এবং চিকেনপক্স উভয় রোগই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। এমএমআর টিকার দুটি ডোজ হামের বিরুদ্ধে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়; এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা বা ইমিউনোগ্লোবুলিন নিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ