প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
মাঙ্গা সংস্কৃতির ছোঁয়ায় বদলে গেল জাপানের ফুটবল
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ফুটবল খেলাটা ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার—এই দীর্ঘদিনের মিথটিকে ভেঙে দিচ্ছে এশিয়ার দল জাপান। ২০২২ সালের পর থেকে কোনো ইউরোপিয়ান দলের কাছে ৯০ মিনিটে না হারা দলটি জার্মানি, স্পেন, ব্রাজিল এবং ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের হারিয়েছে এবং সর্বশেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে। জাপানের ফুটবলের এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দেশটির বিশেষ ‘মাঙ্গা’ সংস্কৃতি।১৯৮১ সালে যখন জাপানে কোনো পেশাদার ফুটবল লিগ ছিল না, তখন শিল্পী তাকাহাশি ইউইচি ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’ নামের একটি ফুটবলভিত্তিক কাল্পনিক মাঙ্গা বা কমিক বইয়ের গল্প আঁকা শুরু করেন। এই বইটি এক সপ্তাহেই ৬০ লক্ষ কপি বিক্রি হয় এবং গোটা একটি প্রজন্মকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে বাধ্য করে। এই মাঙ্গার আবেদন শুধু জাপানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ‘অলিভার অ্যান্ড বেনজি’ বা ‘ক্যাপ্টেন মাজেদ’ নামে ইউরোপ ও আরব বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ফার্নান্দো তরেস, লিওনেল মেসি, ডেভিড ভিয়া, লুকাস পোডলস্কি এবং আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর মতো বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলাররা ছোটবেলায় এই মাঙ্গা দেখেই ফুটবলার হওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।এই মাঙ্গা সংস্কৃতির হাত ধরে ১৯৯২ সালে জাপানের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগামী ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপ জেতার একটি দীর্ঘমেয়াদি ছক কষে। সেই লক্ষ্যে জিকো ও গ্যারি লিনেকারের মতো তারকাদের লিগে আনা হয় এবং আর্সেন ওয়েঙ্গার জাপানি ক্লাবের কোচ হিসেবে যোগ দেন। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে জোর দিয়ে ছয় বছরের শিশুদের জন্য কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়। যার ফলে, ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপে কেবল দেশীয় লিগের খেলোয়াড় নিয়ে অংশ নেওয়া জাপান ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ইউরোপের শীর্ষ লিগ মাতানো একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে মাঠে নামছে।তবে বড় দলের বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে চারবার খেলে চারবারই হেরে বিদায় নিতে হয়েছে জাপানকে। দলে একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের অভাব দূর করতে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখন তাদের সংস্কৃতির কাছেই ফিরে গেছে। বর্তমানে তারা ‘ব্লু লক’ নামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্পোর্টস মাঙ্গার সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে কাজ করছে, যা মূলত সেরা স্ট্রাইকার তৈরির গল্প বলে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে বড় হওয়া জাপানিদেরও জাতীয় দলে আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে, যাতে অচিরেই ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ফুটবলীয় একাধিপত্য চিরতরে ভেঙে দেওয়া যায়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ