প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
খুবিতে সংবাদ প্রকাশের জেরে শিক্ষার্থীকে চিঠি
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃত ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ এনে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী এবং কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মিরাজুল ইসলামকে নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংবাদের তথ্যসূত্র, সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত স্বাক্ষরিত এ চিঠি গত ১৪ জুন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির হাতে পৌঁছায়।অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৯ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুবিতে বৃক্ষরোপণ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে উপাচার্যের উদ্ধৃতি যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি এবং বিষয়টির সারবস্তু বিকৃত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের খুবি প্রতিনিধি মিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি পেশাগত দায়িত্ব থেকে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ করেছেন এবং এর পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে সরাসরি তথ্যসূত্র বা অডিও রেকর্ড তলব করে ডিসিপ্লিনে নোটিশ পাঠানোকে তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষাজীবনকে প্রভাবিত করার অন্যায় চেষ্টা বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিউজের ব্যাখ্যা চেয়ে কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিউজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তারা মনে করছেন এবং এজন্য দৈনিক কালের কণ্ঠ বরাবরও চিঠি পাঠানো হয়েছে।বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সচিব মো. আব্দুস সবুর জানান, প্রেস কাউন্সিলের নিয়মানুযায়ী কোনো নিউজের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে সেই পত্রিকা বরাবর চিঠি পাঠাতে হয়। সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক এবং যথেষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে করা হলে অবশ্যই এটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করে।এদিকে সাংবাদিককে দেওয়া প্রশাসনের এই চিঠির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। সংগঠনের নেতারা এক বিবৃতিতে জানান যে, সাংবাদিকতার রীতিনীতি অনুযায়ী কোনো সাংবাদিক তার সোর্স বা অডিও রেকর্ড প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বাধ্য নন এবং শিক্ষার্থী সত্তাকে জিম্মি করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির এ অপপ্রয়াস অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ