প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের মাঝে ২৪ হাজার টন চাল বিতরণ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে চলতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দেশের সমুদ্রসীমায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময়ে উপকূলীয় জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ কর্মসূচির আওতায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় প্রতিটি নিবন্ধিত পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয় এবং এর পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন দেশের সমুদ্রসীমায় সব ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলারের যাত্রা বন্ধ রাখা হয় এবং বরফকলগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বরফ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। কার্যক্রমটি সফল করতে বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা ও ২৬০টি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।নিষেধাজ্ঞার সময়টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে ২ হাজার ৪৩৮টি অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ৎ এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।এই সমন্বিত অভিযানে ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। আইন অমান্য করায় ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জব্দ করা মালামাল নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ