প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশ্যে এল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ১৪ দফা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
দীর্ঘ গোপনীয়তার পর তীব্র সমালোচনার মুখে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের অফিসিয়াল ১৪ দফার পাঠ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী শুক্রবার ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বিটুইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান’ শিরোনামের এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই পক্ষ ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা পাবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বর্ধিত করা যেতে পারে।অফিসিয়াল নথির প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং চলমান যুদ্ধে লিপ্ত তাদের মিত্র দেশগুলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং কেউ কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপ নেবে না। দুই দেশই পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে।অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ চতুর্থ ও পঞ্চম দফা অনুযায়ী, স্বাক্ষরের সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করবে। এর বিপরীতে ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাসহ ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির মাইন ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নৌ-পরিষেবা ও প্রশাসনের বিষয়ে ওমান ও অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রের সাথে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আলোচনা করবে ইরান।নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম, দশম ও একাদশ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা মিলে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আইএইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং লেনদেন ও পরিবহনের জন্য বিশেষ ছাড়পত্র জারি করবে এবং ইরানের অবরুদ্ধ থাকা সমস্ত তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে অষ্টম ও নবম দফায় ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারিত হবে। চূড়ান্ত চুক্তির আগ পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে; অর্থাৎ ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ধরে রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করবে না।চুক্তির শেষ তিন দফায় বলা হয়েছে, এই সমঝোতা ও চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর নজরদারির জন্য একটি নির্বাহী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিক কিছু ধারা বাস্তবায়ন সাপেক্ষে বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে। এর আগে হোয়াইট হাউস এটিকে কেবল একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ বলে এর গুরুত্ব কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করেছিল এবং ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম পূর্বে ফাঁস হওয়া খসড়ার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ