প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে পিস্তল রেখে টেন্ডারের হুমকি
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের ক্যাডাররা চট্টগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে তাঁর টেবিলে অস্ত্র রেখে কাজ দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ডি-ব্লকের ১৬০ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জোনের অফিসে রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।সন্ত্রাসীরা এই বিষয়টি কাউকে না জানাতে কর্মকর্তাদের শাসিয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র রেখে হুমকি দেওয়ার এ ঘটনার পর থেকে কার্যালয়টির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কার্যালয়ের প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশলী এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মচারীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মুখে মাস্ক পরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ কার্যালয়টিতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে চারজন সন্ত্রাসী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে রুমে অবস্থানরত চট্টগ্রাম বালিকা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার, বিদ্যালয়ের সদস্য কামরুল ইসলাম ও ঠিকাদার মোশাররফ হোসেনসহ অন্যদের অস্ত্রের মুখে জোর করে বের করে দেয়। তবে কয়েকজন প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলীকে অস্ত্রের মুখে একা ফেলে বের হননি।সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির ইসলামকে বলে, ‘আমাদের বস বড় সাজ্জাদ আপনার সঙ্গে কথা বলবেন’ এবং তাদের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। বড় সাজ্জাদ পরিচয় দেওয়া লোকটি নির্বাহী প্রকৌশলীকে তাঁর কর্মীদের দেখতে এবং কাজ দিতে বলে। সাজ্জাদের সঙ্গে কথা বলার সময় দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে দুইটি বিদেশি পিস্তল রাখে এবং নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এ সময় কার্যালয়ে থাকা সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আহাম্মদ মোবাইল বের করতে চাইলে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মোবাইলটি আবার পকেটে নিতে বাধ্য করা হয়।চট্টগ্রাম বালিকা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার মাস্ক পরা কিছু লোক কর্তৃক জোর করে রুম থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে শিক্ষা প্রকৌশলীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকা ও ৫ থানার মানুষ বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অব্যাহত খুন ও চাঁদাবাজির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে এই বাহিনী জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এর আগে মার্চের শুরুর দিকে চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি করার ঘটনা ঘটে এবং সর্বশেষ ১৩ জুন দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়, যে ঘটনায় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিসে গিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া প্রদান এবং প্রকৌশলীদের হুমকি-ধমকির বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তাঁদের কেউ অবহিত করেননি এবং বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ