প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
আজীবন বিয়ে না করার চিন্তা ইসলামে অসমর্থিত
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বর্তমান যুগে ব্যক্তিস্বাধীনতা বা ক্যারিয়ারের কারণে অনেকে বিয়ে থেকে দূরে থাকতে চাইলেও ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ কেবল জৈবিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়, বরং এটি মানসিক প্রশান্তি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং সামাজিক স্থিতির অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রূমের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিবাহকে প্রশান্তি ও ভালোবাসার উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবাহকে ঈমান ও দ্বীনের পরিপূর্ণতার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বর্ণনা করে একে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণতা লাভের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারাকে উৎসাহিত করে এবং অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা প্রকৃতিবিরোধী জীবনাচরণ সমর্থন করে না। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইবাদতের নামে বিবাহকে পরিত্যাগ করা ইসলামের শিক্ষা নয় এবং যে ব্যক্তি তাঁর সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং ইবাদতের দোহাই দিয়ে বা বিবাহকে তুচ্ছজ্ঞান করে আজীবন অবিবাহিত থাকার সংকল্প করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, বিয়ের হুকুম সব মানুষের জন্য এক নয় এবং ব্যক্তির অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এর বিধান ভিন্ন হতে পারে। যদি কারও মধ্যে প্রবল চাহিদা থাকে এবং গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব; আর গুনাহের আশঙ্কা না থাকলে বিয়ে করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। তবে যদি কেউ আর্থিক, শারীরিক বা বিশেষ বাস্তব কারণে কিছু সময় বিয়ে করতে না পারে বা বিয়ে বিলম্বিত হয়, তাহলে সে গুনাহগার হবে না।ইসলাম মানুষকে সহজ ও স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থার মধ্যে থেকে ইবাদত, পরিবার, কাজ ও সামাজিক দায়িত্বের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়। সামর্থ্য ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভোগবাদী চিন্তা বা সুন্নত থেকে বিমুখ হওয়ার মানসিকতায় আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মুমিনের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতকে সম্মান করা এবং সুযোগ ও সামর্থ্য হলে তা অনুসরণ করার আন্তরিক চেষ্টা করা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ