প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
নতুন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান চুক্তিতে লাভবান ইরান, চিন্তিত ইসরাইল
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে, যেখানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলো। ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে তিন মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। ১৪ দফার এই সমঝোতার আওতায় লেবাননসহ ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে এবং এই সময়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে ইরান যুদ্ধের অবসান, ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, তেল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের জন্য বিপুল অর্থায়নের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিকে কৌশলগত ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ইসরাইলের প্রধান দাবিগুলোর কোনোটিই—যেমন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর সীমাবদ্ধতা আনা বা পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা—এই চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি, যা ইরানকে আরও শক্তিশালী এবং ইসরাইলকে বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে।এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ তাদের আশঙ্কা এটি অঞ্চলে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলবে। ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে, বহু বছরের চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান ছিল। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বা নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাই এই সমঝোতার প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ