প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বাংলাদেশ সীমান্তে বর্তমানে কোনো কাঁটাতারের বেড়া না থাকলেও সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানে বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আন্তর্জাতিকভাবে সীমান্তে স্থাপনা নির্মাণের সার্বজনীন কোনো আইন নেই এবং সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজ সীমান্তে স্থাপনা নির্মাণের স্বাধীনতা বাংলাদেশের রয়েছে। তবে ১৯৭৪ সালের ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী, শূন্যরেখা থেকে দেড়শ গজের মধ্যে কোনো পক্ষ প্রতিরক্ষা সামর্থ্য থাকা স্থাপনা গড়তে পারবে না এবং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অপর পক্ষের সম্মতি লাগবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, ভারতের দিকে ইতোমধ্যেই বেড়া থাকায় বাংলাদেশের এই পদক্ষেপে কোনো নিয়ম ভাঙা হচ্ছে না এবং পুশইনের মতো জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ একে পরস্পরের প্রতি ‘আস্থার অভাব’ হিসেবে দেখছেন।সীমান্তে এই বেড়া নির্মাণের আগে বেশ কিছু অবকাঠামো ও বড় অংকের অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। গত ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দ্বিতীয় পর্যায়ের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। এই সীমান্ত সড়কগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হবে।তবে পর্যবেক্ষকরা কাঁটাতারের বেড়ার চেয়ে ড্রোন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তিগত নজরদারির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অধ্যাপক সাহাব এনাম খানের মতে, প্রযুক্তিগত সমাধান একদিকে যেমন চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে, অন্যদিকে মানবিক সংকটের সময় সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তা এড়ানো যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ইতোমধ্যে দুর্গম এলাকায় বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) নির্মাণের পাশাপাশি অতি সংবেদনশীল এলাকায় ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপনের কথা জানিয়েছেন।এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের অংশে ১ হাজার ৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনো ৫৬৩ কিলোমিটার বাকি রয়েছে। ২০২১ সালের নিয়ম অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ এলাকা পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে পারে।শূন্যরেখা থেকে দেড়শো গজ দূরে ভারতের দেওয়া কাঁটাতারের বেড়ার বাইরের জমিতে ভারতীয় কৃষকরা সকাল-সন্ধ্যা বিএসএফের গেটের নিয়ম ও পরিচয়পত্র দেখিয়ে চাষাবাদ করেন। তবে দীর্ঘ পাট চাষের ওপর বিএসএফের নিষেধাজ্ঞা এবং রাতে কোনো জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে এই গেট বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ