প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে এসে যে কারণে কেঁদেছিলেন শাকিরা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বর্তমানে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী মঞ্চ কাঁপানো এবং একাধিক বৈশ্বিক খবরের শিরোনাম হওয়া কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে। তবে বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো এই শিল্পী আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে সম্পূর্ণ নিরবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হওয়া উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছিলেন।২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের এক আকস্মিক সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন শাকিরা। ঢাকায় পৌঁছানোর পর তিনি দ্রুত ছুটে যান বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার সিডর-আক্রান্ত এলাকায়। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের কষ্টের গল্প শোনেন।পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে শাকিরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে বলেছিলেন, "যা কিছু ছিল সব শেষ হয়ে গেছে..., এই দৃশ্য আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। যে মায়েরা তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাদের মুখ আমি কখনো ভুলব না।"সেখানে সিডরে মা-বাবাকে হারানো নিপা নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মুখে একটি শোকের গান শুনে শাকিরা নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। গানটির অর্থ ছিল— ‘মা, তুমি যেখানেই থাকো, আমাকে একটি চিঠি লেখো।’ পরবর্তীতে এক স্মৃতিচারণে শাকিরা জানিয়েছিলেন, নিপার সেই কণ্ঠ তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আধা-ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি স্কুলে শিশুদের খেলতে, গাইতে এবং বড় হয়ে ডাক্তার-নার্স হওয়ার ইতিবাচক স্বপ্ন দেখতে দেখে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন।সফরের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহীতে ইউনিসেফের কর্মজীবী ও পথশিশুদের জন্য পরিচালিত একটি শিক্ষা প্রকল্পও পরিদর্শন করেন। প্রচার-প্রচারণার চেয়ে মানুষকে কাছ থেকে দেখা এবং তাদের বাস্তব জীবন জানাই ছিল শাকিরার এই গোপন সফরের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর এবং আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ