প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
রাজশাহীর দুই হোটেলে হাতবোমা হামলা, আহত ৩ পুলিশ সদস্য
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
রাজশাহীর মতিহার থানার বিনোদপুর বাজারে রেস্তোরাঁয় পার্সেল খাবার দিতে বিলম্ব হওয়া নিয়ে কাটাকাটির জেরে দুটি হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া হাতবোমায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিনোদপুর বাজার ও মন্ডলের মোড় এলাকায় এই তাণ্ডব চলে।হামলায় গুরুতর আহত মতিহার থানার কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুই পুলিশ সদস্য ও হোটেলের আহত কর্মচারীদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি পরিবারসহ বিনোদপুর বাজারের ‘বাংলা টিফিন’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। খাওয়া শেষে তিনি কিছু খাবার পার্সেল নেওয়ার অর্ডার দিলে হোটেলের কর্মচারীরা জানান যে পার্সেল তৈরিতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগবে। এই বিলম্ব নিয়ে হোটেল কর্মচারীদের সঙ্গে রমজানের তীব্র কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি পার্সেল না নিয়েই হোটেল ত্যাগ করেন।এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর একদল যুবক রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরাঁয় চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। যুবকরা হোটেলটি লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একই সময়ে তারা পাশের মন্ডলের মোড়ে অবস্থিত ‘বঙ্গভোজ’ নামের আরও একটি হোটেলেও হামলা ও ভাঙচুর চালায়।এদিকে খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারী যুবকরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতেই কনস্টেবল ফয়েজসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরাঁর মালিক শাকিল জানান, সামান্য একটি পার্সেল অর্ডার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জেরে এমন পরিকল্পিত তাণ্ডব ও পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা কেন ঘটানো হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। অন্যদিকে অভিযুক্ত রমজান আলী জানান, কর্মচারীরা তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করায় তিনি ঝামেলা এড়াতে হোটেল থেকে চলে গিয়েছিলেন; পরবর্তীতে কারা এই হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সহিংস হামলা ও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ