প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
এনডিটিভির বিশ্লেষণ: ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে ভারত
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শন পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের তেল শিল্পের ওপর থেকে ৬০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় (ওয়েভার) ঘোষণা করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই অস্থায়ী সাধারণ লাইসেন্সের আওতায় ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ এবং আমদানির পাশাপাশি জাহাজ পরিবহণ, বীমা ও ব্যাংকিং সেবাও অনুমোদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ ভারত দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সুবিধাভোগী হতে পারে।ভারতের জন্য এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব:
ভারত তার মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সামান্য ওঠানামাও দেশটির আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারত ছাড়মূল্যে রুশ তেলের বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে, যা বর্তমানে দেশটির মোট তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৪০ শতাংশ পূরণ করে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই এসেছে ওপেকের (OPEC) উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের তেল বাজারে ফিরলে ভারতের সামনে জ্বালানি সরবরাহের একটি নতুন ও শক্তিশালী বিকল্প তৈরি হবে।ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্ক:
২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগে ইরান ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ। প্রতিযোগিতামূলক দাম, সহজ ঋণ সুবিধা এবং তুলনামূলক কম পরিবহণ ব্যয়ের কারণে ভারতীয় শোধনাকার বা রিফাইনারিগুলো ইরানি তেলকে বেশ গুরুত্ব দিত। তবে তৎকালীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইরান থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমান এই ছাড়ের ফলে দুই দেশের তেল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হলো।ভারত কি এখনই ইরানি তেল কিনতে পারবে?
বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে বড় পরিসরে ভারত ইরানি তেল কিনতে পারবে না। কারণ বর্তমান ছাড়ের মেয়াদ মাত্র ৬০ দিন এবং এটি চলমান কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল। তেল শোধনাকারগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা ছাড়া বড় চুক্তি করতে চায় না। তবে এই সিদ্ধান্ত একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, আলোচনা সফল হলে ইরানের তেল আবার স্থায়ীভাবে বৈশ্বিক বাজারে ফিরবে। সেক্ষেত্রে ভারত সরাসরি তেল না কিনলেও, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে সামগ্রিক পতন থেকে সরাসরি লাভবান হবে।হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ভারতের সাশ্রয়:
পারস্য উপসাগরকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত করা সংকীর্ণ 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি হয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল এবং তেলের দাম নিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে মার্কিন-ইরান সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকায় ভারতের এই রুটভিত্তিক ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তেল আমদানি ব্যয় করা ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেলের দাম কমা মানেই বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হওয়া। যদি ইরানের তেল আবার বড় পরিসরে বাজারে ফেরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ