প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি: হামলার মুখেও ইরানের অর্ধেক মিসাইল লঞ্চার অক্ষত
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলা চললেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়নের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার পাশাপাশি হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন এখনো তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে এবং সেগুলো ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।ফাঁস হওয়া এই গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা তারা প্রায় নিঃশেষ করে ফেলেছেন। তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে কিছু লঞ্চার আটকা পড়ে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও একটি বড় অংশ এখনো কার্যকর। এমনকি ইসরায়েলের পূর্ববর্তী দাবিকেও এই নতুন তথ্য চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যেখানে তারা ৬০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করেছিল।বিশ্লেষকদের মতে, লঞ্চারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে তথ্যের এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা প্রায় ২০০টি লঞ্চার সরাসরি ধ্বংস করেছে এবং আরও ৮০টি ভূগর্ভস্থ স্থাপনার প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়ে সেগুলোকে অকার্যকর করেছে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ইরান এখনো পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা বজায় রেখেছে।এদিকে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে, এ ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে মূলত যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক অভিযানের সাফল্যকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের ফলে ইরানের প্রকৃত সামরিক শক্তি এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ