প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের স্বাস্থ্যখাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি হামলা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। চলমান যুদ্ধে ইরানের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনার ওপর এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি একটি বিশেষ সতর্কবার্তাও জারি করেছেন। বিশেষ করে তেহরানের ঐতিহাসিক গবেষণা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলার পর এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।ডব্লিউএইচও প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন যে, তেহরানের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে একাধিক হামলার ফলে পাস্তুর ইনস্টিটিউট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ দাবি করেছে, হামলার পরও প্রতিষ্ঠানটির টিকা ও সিরাম উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং কোনো কর্মী হতাহত হননি। ডব্লিউএইচও-র তথ্যমতে, গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে হওয়া হামলাগুলোতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন রেড ক্রিসেন্ট সদস্য রয়েছেন।যুদ্ধের শুরুতে কেবল সামরিক ও রাজনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হলেও বর্তমানে হামলাগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন খাতের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান আরও জানান, দেলারাম সিনা মানসিক হাসপাতাল এবং তোফিঘ দারু ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানাও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের ইমাম আলি হাসপাতালের কাছে বিস্ফোরণের ফলে হাসপাতালটি খালি করে দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লেজার ও প্লাজমা গবেষণা কেন্দ্র এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি গুদামেও হামলা চালিয়ে মূল্যবান ত্রাণসামগ্রী ও যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩০৭টি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণীত জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকেই মানবিক সহায়তাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সংঘাত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকেই এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ