প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন বিমানের পাইলটকে উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানটিকে আসলে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির একটি গোপন পরিকল্পনা হিসেবে দাবি করেছে ইরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্থাপন করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ইরানের দাবি:
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার (৫ এপ্রিল) ইরানের ইসফাহান প্রদেশে একটি মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। রোববার (৫ এপ্রিল) মার্কিন বাহিনী সেখানে যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বা ইউরেনিয়াম হাতিয়ে নেওয়া। ইরানের দাবি, এটি কোনো সাধারণ উদ্ধার অভিযান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ‘ছদ্মবেশী অপারেশন’ যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের কৌশলগত পরমাণু ভাণ্ডারে আঘাত হানার ছক কষেছিল।আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে একটি সাধারণ উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। এএফপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মনে করছে পরমাণু ইস্যুতে তাদের চাপে ফেলতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
ইরানের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই নতুন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইসফাহানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মার্কিন কমান্ডো বাহিনীর এই তৎপরতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ