প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের জয় দেখলেও বিশ্লেষকদের চোখে চড়া মূল্যের শঙ্কা
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
ইরানের দেওয়া ১০টি দাবির সবগুলো মেনে নিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের ‘জয়’ হিসেবে দাবি করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এর জন্য ভবিষ্যতে বহুমূল্য চোকাতে হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য পূরণ ও ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে পারলেও, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং মিসাইল ভাণ্ডারের সঠিক অবস্থান ও অবস্থা এখনো অজানা রয়ে গেছে।এই চুক্তি ট্রাম্পকে একটি চরম সংকট থেকে সাময়িক নিষ্কৃতি দিলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের সামনে হয় ভয়াবহ হামলা, নয়তো পিছু হটে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর পথ খোলা ছিল। এই যুদ্ধবিরতির প্রভাবে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে এবং মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান নিয়ে সংশয় কাটেনি। বিশেষ করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর ভাষা ও হুমকি বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঘরোয়া রাজনীতিতেও ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা তাকে নেতৃত্বের অনুপযুক্ত ঘোষণা করেছেন এবং রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্যও তার ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকির বিরোধিতা করেছেন। জর্জিয়া, উইসকনসিন এবং টেক্সাসের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের এই অবস্থানকে ভুল এবং নীতিবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন। নিজ দলের ভেতরে সমালোচনা এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে এই যুদ্ধবিরতি ট্রাম্পের জন্য এক প্রকার স্বস্তি নিয়ে এসেছে।তবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে চুক্তির কঠিন শর্তগুলো। এই পরিকল্পনায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এসব শর্ত মেনে নেবেন কিনা তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। ফলে বর্তমানের এই আংশিক রাজনৈতিক জয় ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো সংকটের পূর্বাভাস কিনা, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ