প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল পাশ: জামায়াতের আপত্তি ও এনসিপির সমর্থন
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সংশোধন বিল’ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এই বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপ দেওয়া হলো।বিলের ওপর আপত্তি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দীর্ঘ বক্তব্য দেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, ২০০২ সালের আইনে রাজনৈতিক দলগুলোকে হানাদার বাহিনীর সহযোগী বলা হয়নি এবং বর্তমান সংজ্ঞায় দলগুলোর নাম থাকা যুক্তিযুক্ত নয়। তারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের’ সংজ্ঞা পরিবর্তনের দাবি জানান। তবে জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিলের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়ে স্পিকারকে লিখিত বার্তা দিয়েছে।পাশ হওয়া এই আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর ও নৌ কমান্ডোদের পাশাপাশি বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন বয়স সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বহাল রাখা হয়েছে।বিলের ব্যাখ্যায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বলতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত যুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে। জামায়াতের এমপিরা কমিটির প্রতিবেদনে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও স্পিকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারার সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় তাদের আপত্তির বিষয়টি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হয়নি। মূলত ত্রয়োদশ সংসদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ও আইনি সংজ্ঞায় অভিযুক্ত দলগুলোর নাম অপরিবর্তিত থাকল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ