প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
ঈশ্বর যুদ্ধবাজদের প্রার্থনা শোনেন না, সামরিক শক্তি শান্তি আনতে পারে না: পোপ
ঢাকা নিউজ ডেস্ক ||
বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত এবং ধর্মকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সামরিক শক্তি কখনোই প্রকৃত শান্তি বা স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পোপ বলেন, "ঈশ্বর কোনো সংঘাতকে আশীর্বাদ করেন না। যারা তলোয়ার বা বোমার মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, যিশুখ্রিষ্টের কোনো অনুসারী তাদের পক্ষে থাকতে পারে না।"পোপের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের পক্ষে ধর্মীয় যুক্তি দিচ্ছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে, ঈশ্বর ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করেন এবং তিনি মানুষের কল্যাণ দেখতে চান। এর বিপরীতে পোপ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গাইতে ঈশ্বরকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল ঘৃণাকেই উসকে দিচ্ছে।পোপের এই অবস্থানের বিপরীতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই যুদ্ধকে ‘ঐশ্বরিক অনুমোদনপ্রাপ্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পেন্টাগনের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি মার্কিন বাহিনীর পক্ষে জয় এবং শত্রুদের ওপর ‘চরম সহিংসতা’ প্রদর্শনের প্রার্থনা করেন। হেগসেথের এই উগ্র অবস্থান এবং ট্রাম্পের ‘ঈশ্বর মঙ্গলময়’ তত্ত্বকে নাকচ করে দিয়ে পোপ জোর দিয়ে বলেন, ঈশ্বর যুদ্ধবাজদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।পোপ লিও চতুর্দশ তার বক্তব্যে ধৈর্যশীল সহাবস্থান ও সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, তলোয়ার বা বোমার চেয়ে আলাপ-আলোচনাই শান্তির একমাত্র পথ। বর্তমানে ইরান যুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও ধর্মীয় নেতাদের এই বিপরীতমুখী অবস্থান এবং যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, পোপ সরাসরি কারও নাম না নিলেও তার বার্তাটি যে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী নীতির দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ, তা বিশ্লেষকদের কাছে স্পষ্ট।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ