ঢাকা নিউজ

খুলনায় বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি, নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা ও পরকীয়া


প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

খুলনায় বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি, নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা ও পরকীয়া

খুলনার লবণচরা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করে পালিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে মহানগরীর লবণচরা থানাধীন খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও আহতদের পরিচয়

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কাজী আনিসুর রহমানের বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতরা হলেন— গৃহকর্তা কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং অপর ছেলের স্ত্রী ফাহিমা।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রঞ্জুয়ারা বেগমের বুকে এবং ফাহিমার পায়ে বিদ্ধ গুলি বের করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নেপথ্যে 'পরকীয়া' ও পুরনো আক্রোশ

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হামলার পেছনে রয়েছে পারিবারিক ও অপরাধ জগতের পুরনো বিরোধ। এলাকাবাসী জানায়, আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল এক মাদক মামলায় কারাগারে থাকাকালীন ইমরান নামে এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে পরিচিত হন। সেই পরিচয়ের সূত্রে রাশিদুল ইমরানের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। পরবর্তীতে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সঙ্গে রাশিদুলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

মাস ছয়েক আগে ইমরান পুনরায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ও ফাহিমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই ঘটনা জানতে পেরে কারাবন্দি ইমরান চরম ক্ষুব্ধ হন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আক্রোশ থেকেই আজ ভোরের এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরকীয়া ও প্রেমঘটিত বিরোধের জের ধরেই এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,

"প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্তত ছয়জন এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে। রঞ্জুয়ারা ও ফাহিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।"

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬


খুলনায় বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি, নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা ও পরকীয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

খুলনার লবণচরা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করে পালিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে মহানগরীর লবণচরা থানাধীন খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও আহতদের পরিচয়

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কাজী আনিসুর রহমানের বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতরা হলেন— গৃহকর্তা কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং অপর ছেলের স্ত্রী ফাহিমা।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রঞ্জুয়ারা বেগমের বুকে এবং ফাহিমার পায়ে বিদ্ধ গুলি বের করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নেপথ্যে 'পরকীয়া' ও পুরনো আক্রোশ

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হামলার পেছনে রয়েছে পারিবারিক ও অপরাধ জগতের পুরনো বিরোধ। এলাকাবাসী জানায়, আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল এক মাদক মামলায় কারাগারে থাকাকালীন ইমরান নামে এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে পরিচিত হন। সেই পরিচয়ের সূত্রে রাশিদুল ইমরানের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। পরবর্তীতে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সঙ্গে রাশিদুলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

মাস ছয়েক আগে ইমরান পুনরায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ও ফাহিমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই ঘটনা জানতে পেরে কারাবন্দি ইমরান চরম ক্ষুব্ধ হন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আক্রোশ থেকেই আজ ভোরের এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরকীয়া ও প্রেমঘটিত বিরোধের জের ধরেই এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,

"প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্তত ছয়জন এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে। রঞ্জুয়ারা ও ফাহিমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।"

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সিরাজ চিশতী
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ