ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঘিরে দিল্লির নীতিনির্ধারক মহলে নতুন এক কূটনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই প্রবীণ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কূটনৈতিক দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দীনেশ ত্রিবেদী কংগ্রেস, জনতা দল এবং তৃণমূল হয়ে বর্তমানে বিজেপির সাথে যুক্ত। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার ঝুলিতে। দিল্লির একটি সূত্রের দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রশ্নে একজন বঙ্গভাষী ও অভিজ্ঞ মুখকে সামনে আনার কৌশল থেকেই এই ভাবনা। অতীতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়কেও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠিয়ে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হয়েছিল।সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদেরই এসব পদে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে পরিণত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার নজির ভারতে রয়েছে। মনি শংকর আইয়ার কিংবা বিজয় নামবিয়ারের মতো ব্যক্তিত্বরা এর আগে রাজনীতি ও কূটনীতির এই সেতুবন্ধনে সফল ভূমিকা রেখেছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীকে এমন কোনো বড় দায়িত্বে বসানো হলে তা হবে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। এটি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক নিয়োগ হবে না, বরং পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মধ্যকার রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই জল্পনা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।