নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আজ রোববার (২২ মার্চ) সকালে সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) উত্তর বজরা ও দক্ষিণ বজরা এলাকার দুটি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের আহত আটজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘরে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। দক্ষিণ বজরা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. মাহফুজ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাইমুড়ী থানায় এই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন পূর্বশত্রুতার জেরে দক্ষিণ বজরা এলাকার হাফার গোড়া নামক স্থানে একই এলাকার দ্বীন মোহাম্মদ ও মিরাজসহ কয়েকজন যুবক উত্তর বজরা এলাকার সালমানদের ওপর হামলা চালান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে উত্তর বজরা এলাকার ফয়সাল (১৪), মো. ফরহাদ (২২) ও আজিম উদ্দিন (১৫) দক্ষিণ বজরা এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় দক্ষিণ বজরার লোকজন তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন।
পরে সোনাইমুড়ী থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ বজরা এলাকায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোশধারী ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ইয়াছিন মোল্লার বসতঘরে হামলা চালানো হয় এবং ব্যবসায়ী মো. মাহফুজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্ত্রের কোপে মো. ইসমাইল হোসেনের বসতঘরের টিনের বেড়া ছিন্নভিন্ন হয়ে রয়েছে। বাড়ির উঠানে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী মো. মাহফুজের মুদিদোকানের টিনের বেড়াগুলোতেও রয়েছে অসংখ্য কোপের দাগ। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে ওই দোকানের মালামাল। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন সময় এই দুই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
ইতিপূর্বে তিন-চারবার নানা বিষয়ে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় এই এলাকায় দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারও হয়ে থাকে। দফায় দফায় হামলার বিভিন্ন ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের হাতে থাকা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করতে দেখা গেছে।
পাল্টাপাল্টি এই হামলায় দক্ষিণ বজরার শাকিল, আব্দুল কাইয়ুম, মিনু বেগম ও ৫ বছরের শিশু মেহেদি আহত হয়। শিশু মেহেদির ভাঙা হাত ও শাকিল ডান চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন উত্তর বজরার মইন উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল, মো. ফরহাদ, আজিম উদ্দিন এবং আবুল হাসানের ছেলে মামুনুর রশিদ কানু (৪৮)।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি মো. মাহফুজ জানান, গতকাল দুপুরে তাঁর দোকানসংলগ্ন একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে উত্তর বজরা এলাকার দুটি ছেলেকে মারধর করা হয়। মো. মাহফুজ ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়।
কিন্তু ঘটনার দুই-তিন ঘণ্টা পর মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ মো. মাহফুজের দোকানে হামলা করে লুটপাট চালায় এবং সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে নিয়ে যায়। এতে তাঁর কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মো. মাহফুজ দাবি করেন।
অন্যদিকে, বসতঘরে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মো. ইসমাইল হোসেন। মো. ইসমাইল হোসেন জানান, দুপুরে উত্তর বজরার দুই কিশোরকে পূর্বের ঘটনার জেরে দক্ষিণ বজরার কিছু ছেলেপেলে মারধর করছিল।
মো. ইসমাইল হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার জেরে উত্তর বজরার অস্ত্রধারী একটি গ্রুপ মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িঘরে হামলা করে। মো. ইসমাইল হোসেন আরও যুক্ত করেন যে এই হামলায় সুজনের নেতৃত্বে সুমন, লিটন, নীরব, আজগর, রিয়াজ ও রানাসহ ৩০-৪০ জনের একটি বাহিনী অংশ নিয়েছিল।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ফয়সাল, মো. ফরহাদ ও আজিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে বিনা কারণে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে পাল্টা হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ফয়সাল, মো. ফরহাদ ও আজিম উদ্দিন অস্বীকার করেন।
সার্বিক এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ওই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উদয়নের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন। পরে এএসআই উদয়ন জানান, গতকাল তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এএসআই উদয়ন নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আজ রোববার (২২ মার্চ) সকালে সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) উত্তর বজরা ও দক্ষিণ বজরা এলাকার দুটি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের আহত আটজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘরে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। দক্ষিণ বজরা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. মাহফুজ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাইমুড়ী থানায় এই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন পূর্বশত্রুতার জেরে দক্ষিণ বজরা এলাকার হাফার গোড়া নামক স্থানে একই এলাকার দ্বীন মোহাম্মদ ও মিরাজসহ কয়েকজন যুবক উত্তর বজরা এলাকার সালমানদের ওপর হামলা চালান। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে উত্তর বজরা এলাকার ফয়সাল (১৪), মো. ফরহাদ (২২) ও আজিম উদ্দিন (১৫) দক্ষিণ বজরা এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় দক্ষিণ বজরার লোকজন তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন।
পরে সোনাইমুড়ী থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ বজরা এলাকায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোশধারী ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ইয়াছিন মোল্লার বসতঘরে হামলা চালানো হয় এবং ব্যবসায়ী মো. মাহফুজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্ত্রের কোপে মো. ইসমাইল হোসেনের বসতঘরের টিনের বেড়া ছিন্নভিন্ন হয়ে রয়েছে। বাড়ির উঠানে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী মো. মাহফুজের মুদিদোকানের টিনের বেড়াগুলোতেও রয়েছে অসংখ্য কোপের দাগ। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে ওই দোকানের মালামাল। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন সময় এই দুই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
ইতিপূর্বে তিন-চারবার নানা বিষয়ে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকাভিত্তিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় এই এলাকায় দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারও হয়ে থাকে। দফায় দফায় হামলার বিভিন্ন ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের হাতে থাকা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করতে দেখা গেছে।
পাল্টাপাল্টি এই হামলায় দক্ষিণ বজরার শাকিল, আব্দুল কাইয়ুম, মিনু বেগম ও ৫ বছরের শিশু মেহেদি আহত হয়। শিশু মেহেদির ভাঙা হাত ও শাকিল ডান চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন উত্তর বজরার মইন উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল, মো. ফরহাদ, আজিম উদ্দিন এবং আবুল হাসানের ছেলে মামুনুর রশিদ কানু (৪৮)।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি মো. মাহফুজ জানান, গতকাল দুপুরে তাঁর দোকানসংলগ্ন একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে উত্তর বজরা এলাকার দুটি ছেলেকে মারধর করা হয়। মো. মাহফুজ ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়।
কিন্তু ঘটনার দুই-তিন ঘণ্টা পর মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ মো. মাহফুজের দোকানে হামলা করে লুটপাট চালায় এবং সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে নিয়ে যায়। এতে তাঁর কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মো. মাহফুজ দাবি করেন।
অন্যদিকে, বসতঘরে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মো. ইসমাইল হোসেন। মো. ইসমাইল হোসেন জানান, দুপুরে উত্তর বজরার দুই কিশোরকে পূর্বের ঘটনার জেরে দক্ষিণ বজরার কিছু ছেলেপেলে মারধর করছিল।
মো. ইসমাইল হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার জেরে উত্তর বজরার অস্ত্রধারী একটি গ্রুপ মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িঘরে হামলা করে। মো. ইসমাইল হোসেন আরও যুক্ত করেন যে এই হামলায় সুজনের নেতৃত্বে সুমন, লিটন, নীরব, আজগর, রিয়াজ ও রানাসহ ৩০-৪০ জনের একটি বাহিনী অংশ নিয়েছিল।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ফয়সাল, মো. ফরহাদ ও আজিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে বিনা কারণে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে পাল্টা হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ফয়সাল, মো. ফরহাদ ও আজিম উদ্দিন অস্বীকার করেন।
সার্বিক এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ওই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উদয়নের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন। পরে এএসআই উদয়ন জানান, গতকাল তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এএসআই উদয়ন নিশ্চিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন