ঢাকা নিউজ

তিন দিন পরেও সরকারি আদেশ পায়নি যমুনা অয়েল!


প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তিন দিন পরেও সরকারি আদেশ পায়নি যমুনা অয়েল!

জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রথা তুলে নেওয়ার সরকারি ঘোষণার তিন দিন পার হলেও রহস্যজনক কারণে তার সুফল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না করার অভিযোগ তুলেছেন পাম্প মালিকরা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক আদেশ হাতে পায়নি।

আদেশ অমান্য ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ গত ১৪ মার্চ সরকার সারা দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও যমুনা অয়েল এখনো অর্ধেকেরও কম জ্বালানি সরবরাহ করছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা ও বরিশালের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, ডিমান্ড নোট বা পে-অর্ডার জমা দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী তেলের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সেবা ব্যাহত ও জনদুর্ভোগ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সরকারি দপ্তর ও হাসপাতালে তেল সরবরাহকারী পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও অকটেন না পাওয়ায় জরুরি সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সোহরাওয়ার্দী ও নিটোরের মতো প্রধান হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে বাস টার্মিনালগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় আসন্ন ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বাসকে তেল নিতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও অব্যবস্থাপনা যমুনা অয়েলের ডিলারদের অভিযোগ, সংকটের এই সময়ে কোম্পানির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফোন দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমনকি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের পাম্পগুলোতে তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি ঘোষণা এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার এই ফারাক সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬


তিন দিন পরেও সরকারি আদেশ পায়নি যমুনা অয়েল!

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রথা তুলে নেওয়ার সরকারি ঘোষণার তিন দিন পার হলেও রহস্যজনক কারণে তার সুফল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না করার অভিযোগ তুলেছেন পাম্প মালিকরা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক আদেশ হাতে পায়নি।

আদেশ অমান্য ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ গত ১৪ মার্চ সরকার সারা দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও যমুনা অয়েল এখনো অর্ধেকেরও কম জ্বালানি সরবরাহ করছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা ও বরিশালের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, ডিমান্ড নোট বা পে-অর্ডার জমা দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী তেলের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সেবা ব্যাহত ও জনদুর্ভোগ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সরকারি দপ্তর ও হাসপাতালে তেল সরবরাহকারী পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও অকটেন না পাওয়ায় জরুরি সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সোহরাওয়ার্দী ও নিটোরের মতো প্রধান হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে বাস টার্মিনালগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় আসন্ন ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বাসকে তেল নিতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও অব্যবস্থাপনা যমুনা অয়েলের ডিলারদের অভিযোগ, সংকটের এই সময়ে কোম্পানির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফোন দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমনকি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের পাম্পগুলোতে তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি ঘোষণা এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার এই ফারাক সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ