চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়াবেটিসকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যকৃৎ (লিভার) এবং অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে নতুন ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে থাকে।
টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পার্থক্য ডায়াবেটিসের প্রধানত দুটি ধরন রয়েছে। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত শিশু বা কিশোর বয়সে দেখা দেয়, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ধ্বংস করে ফেলে। ফলে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। অন্যদিকে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হলেও বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে। এক্ষেত্রে শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও কোষগুলো তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
ক্যানসার ঝুঁকির ভয়াবহ পরিসংখ্যান যুক্তরাজ্যের 'ইউকে বায়োব্যাংক'-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এক সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়:
প্যানক্রিয়াস ক্যানসার: ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭৪ শতাংশ বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ।
যকৃৎ (লিভার) ক্যানসার: নারীদের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের আশঙ্কা প্রায় পাঁচ গুণ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চার গুণ বেশি।
গবেষকদের মতে, গড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের প্যানক্রিয়াস ক্যানসারের ঝুঁকি ২.৩ গুণ এবং যকৃৎ ক্যানসারের ঝুঁকি ১.৮ গুণ বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও করণীয় যাদের শরীরে নতুন করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যদি দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত ক্যানসার স্ক্রিনিং করা জরুরি।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে:
সুষম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ধূমপান ও মদ্যপান পুরোপুরি পরিহার করা।

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়াবেটিসকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যকৃৎ (লিভার) এবং অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে নতুন ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে থাকে।
টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পার্থক্য ডায়াবেটিসের প্রধানত দুটি ধরন রয়েছে। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সাধারণত শিশু বা কিশোর বয়সে দেখা দেয়, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ধ্বংস করে ফেলে। ফলে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। অন্যদিকে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হলেও বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে। এক্ষেত্রে শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও কোষগুলো তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
ক্যানসার ঝুঁকির ভয়াবহ পরিসংখ্যান যুক্তরাজ্যের 'ইউকে বায়োব্যাংক'-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এক সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়:
প্যানক্রিয়াস ক্যানসার: ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭৪ শতাংশ বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ।
যকৃৎ (লিভার) ক্যানসার: নারীদের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের আশঙ্কা প্রায় পাঁচ গুণ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে চার গুণ বেশি।
গবেষকদের মতে, গড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের প্যানক্রিয়াস ক্যানসারের ঝুঁকি ২.৩ গুণ এবং যকৃৎ ক্যানসারের ঝুঁকি ১.৮ গুণ বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও করণীয় যাদের শরীরে নতুন করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যদি দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত ক্যানসার স্ক্রিনিং করা জরুরি।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে:
সুষম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ধূমপান ও মদ্যপান পুরোপুরি পরিহার করা।

আপনার মতামত লিখুন