ঢাকা নিউজ

পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও কাটছে না ক্লান্তি? শরীরে যে ৫টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে দায়ী


প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও কাটছে না ক্লান্তি? শরীরে যে ৫টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে দায়ী

সারাদিন পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরও কি শরীর ম্যাজমেজে লাগে? সামান্য কাজেই কি দ্রুত হাঁপিয়ে উঠছেন? বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই তাৎক্ষণিক শক্তি পেতে এনার্জি ড্রিংকসের ওপর নির্ভর করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি আসলে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাবের সংকেত হতে পারে।

সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে কোন উপাদানগুলো আপনার শরীরে থাকা জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ভিটামিন বি-১২: শক্তির পাওয়ার হাউস

ভিটামিন বি-১২ মূলত খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। একে ‘এনার্জির পাওয়ার হাউস’ বলা হয়। মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্পষ্টভাবে চিন্তা করার ক্ষমতার জন্যও এটি অপরিহার্য। সাধারণত মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবারে এটি পাওয়া যায়। যারা নিরামিষভোজী, তাদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

২. আয়রন: অক্সিজেনের বাহক

শরীরে আয়রনের মাত্রা কমে গেলে কোষগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে দ্রুত দুর্বলতা ও অবসাদ অনুভূত হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে আয়রনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাংস, মাছ এবং গোটা শস্য আয়রনের চমৎকার উৎস।

৩. ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেশিয়াম

হাড়ের সুস্বাস্থ্য ছাড়াও পেশির কার্যকারিতা বাড়াতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে শরীরে তীব্র ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। সূর্যের আলো এই ভিটামিনের প্রধান উৎস। অন্যদিকে, ম্যাগনেশিয়াম আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এর ঘাটতি হলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং অবসাদগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

৪. জিংক ও পটাশিয়াম

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এটি লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে এবং এনজাইম উৎপাদনে সহায়তা করে। জিংকের অভাব হলে ক্ষুধা কমে যায়, যা পরোক্ষভাবে শরীরের শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি পটাশিয়াম শরীরকে ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

৫. ভিটামিন সি

ভিটামিন সি সরাসরি শক্তি না দিলেও এটি শরীরকে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। ফলে পরোক্ষভাবে এটি ক্লান্তি দূর করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি কেবল ভিটামিনের অভাব নয়, বরং থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের লক্ষণও হতে পারে। তাই যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬


পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও কাটছে না ক্লান্তি? শরীরে যে ৫টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে দায়ী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

সারাদিন পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরও কি শরীর ম্যাজমেজে লাগে? সামান্য কাজেই কি দ্রুত হাঁপিয়ে উঠছেন? বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে ক্লান্তি আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই তাৎক্ষণিক শক্তি পেতে এনার্জি ড্রিংকসের ওপর নির্ভর করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি আসলে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাবের সংকেত হতে পারে।

সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে কোন উপাদানগুলো আপনার শরীরে থাকা জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ভিটামিন বি-১২: শক্তির পাওয়ার হাউস

ভিটামিন বি-১২ মূলত খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। একে ‘এনার্জির পাওয়ার হাউস’ বলা হয়। মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্পষ্টভাবে চিন্তা করার ক্ষমতার জন্যও এটি অপরিহার্য। সাধারণত মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবারে এটি পাওয়া যায়। যারা নিরামিষভোজী, তাদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

২. আয়রন: অক্সিজেনের বাহক

শরীরে আয়রনের মাত্রা কমে গেলে কোষগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে দ্রুত দুর্বলতা ও অবসাদ অনুভূত হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে আয়রনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাংস, মাছ এবং গোটা শস্য আয়রনের চমৎকার উৎস।

৩. ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেশিয়াম

হাড়ের সুস্বাস্থ্য ছাড়াও পেশির কার্যকারিতা বাড়াতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে শরীরে তীব্র ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। সূর্যের আলো এই ভিটামিনের প্রধান উৎস। অন্যদিকে, ম্যাগনেশিয়াম আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এর ঘাটতি হলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং অবসাদগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

৪. জিংক ও পটাশিয়াম

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এটি লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে এবং এনজাইম উৎপাদনে সহায়তা করে। জিংকের অভাব হলে ক্ষুধা কমে যায়, যা পরোক্ষভাবে শরীরের শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি পটাশিয়াম শরীরকে ইলেক্ট্রোলাইট সরবরাহ করে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

৫. ভিটামিন সি

ভিটামিন সি সরাসরি শক্তি না দিলেও এটি শরীরকে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। ফলে পরোক্ষভাবে এটি ক্লান্তি দূর করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি কেবল ভিটামিনের অভাব নয়, বরং থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের লক্ষণও হতে পারে। তাই যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ওমর ফারুক
প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ