গোয়েন্দা সতর্কতা সত্ত্বেও মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানি হামলায় কেন ‘বিস্মিত’ প্রেসিডেন্ট?
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলার সুনির্দিষ্ট সতর্কতা আগেই দেওয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই আগাম সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের এই প্রতিক্রিয়া তাকে ‘বিস্মিত’ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধের আগে দেওয়া মূল্যায়নে পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, তেহরান যদি মনে করে উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার এই আক্রমণকে সমর্থন করছে, তবে তারা সরাসরি সেই দেশগুলোর রাজধানী বা সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করতে পারে। যদিও সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং কেউ তা আগে ভাবেনি।অন্যদিকে গোয়েন্দা নথিপত্র বলছে ভিন্ন কথা। ট্রাম্পকে আগেই অবগত করা হয়েছিল যে, ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে ইরান খুব দ্রুত আমেরিকায় আঘাত হানার মতো মিসাইল ও পারমাণবিক বোমা তৈরি করবে, যদিও গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো এই তথ্যের পেছনে শক্ত কোনো প্রমাণ পায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘এপিক ফিউরি’ অপারেশনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথটি বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।গত দুই সপ্তাহে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দর, হোটেল এবং জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের ব্রিফিং শেষে জানিয়েছেন, ইরান থেকে এমন কোনো ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ ছিল না যার জন্য এই যুদ্ধ শুরু করা জরুরি ছিল। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইসরাইলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে চালানো এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন