ঢাকা নিউজ

উপসাগরীয় তিন দেশের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা



উপসাগরীয় তিন দেশের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। মূলত ইরানের বুশেহর অঞ্চলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং আনজালি বন্দরে ইসরায়েলি হামলার জটিকা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে ইরান ও কাতার উভয়েরই অংশীদারিত্ব থাকায় এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার আগে কাতার, সৌদি ও আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল ও গ্যাস স্থাপনার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সেই সতর্কবার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় বিধ্বংসী আক্রমণ। এই অভিযানে কাতারের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্র, আবুধাবির হাবশান ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি বড় তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান গ্যাসক্ষেত্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবেই তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে মার্কিন স্থাপনা ছাড়াও আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করায় পুরো অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। কাতার এই ঘটনাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যকার এই ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর আঘাত হানায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬


উপসাগরীয় তিন দেশের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। মূলত ইরানের বুশেহর অঞ্চলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং আনজালি বন্দরে ইসরায়েলি হামলার জটিকা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে ইরান ও কাতার উভয়েরই অংশীদারিত্ব থাকায় এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার আগে কাতার, সৌদি ও আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল ও গ্যাস স্থাপনার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সেই সতর্কবার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় বিধ্বংসী আক্রমণ। এই অভিযানে কাতারের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্র, আবুধাবির হাবশান ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি বড় তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান গ্যাসক্ষেত্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবেই তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে মার্কিন স্থাপনা ছাড়াও আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করায় পুরো অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। কাতার এই ঘটনাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যকার এই ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর আঘাত হানায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সিরাজ চিশতী
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ