ঢাকা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা যুক্তরাজ্যে: গ্যাসের দাম এক লাফে বাড়ল ১৪০ শতাংশ



মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা যুক্তরাজ্যে: গ্যাসের দাম এক লাফে বাড়ল ১৪০ শতাংশ
ছবি : সংগৃহিত

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দামে নজিরবিহীন এক উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পাইকারি বাজারে প্রতি থার্ম গ্যাসের দাম বেড়ে ১৭১.৩৪ পেন্সে (২.২৯ ডলার) গিয়ে ঠেকেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি কমপ্লেক্স কাতারের 'রাস লাফান'-এর একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাসের একটি বড় অংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও কাতারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকটের আঁচ সেখানে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে ব্রিটিশ বাজারে তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চাইছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংঘাত তাদের কাম্য নয়। তবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নীতিগত মতভেদ দেখা দিয়েছে। পোল্যান্ড ও ইতালির মতো দেশগুলো কার্বন কর কমানোর প্রস্তাব দিলেও জার্মানি ও স্পেনের মতো দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যমান সংকট কাটাতে ব্রাসেলসে আসন্ন বৈঠকে দেশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা যুক্তরাজ্যে: গ্যাসের দাম এক লাফে বাড়ল ১৪০ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দামে নজিরবিহীন এক উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পাইকারি বাজারে প্রতি থার্ম গ্যাসের দাম বেড়ে ১৭১.৩৪ পেন্সে (২.২৯ ডলার) গিয়ে ঠেকেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি কমপ্লেক্স কাতারের 'রাস লাফান'-এর একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাসের একটি বড় অংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও কাতারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকটের আঁচ সেখানে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে ব্রিটিশ বাজারে তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চাইছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংঘাত তাদের কাম্য নয়। তবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নীতিগত মতভেদ দেখা দিয়েছে। পোল্যান্ড ও ইতালির মতো দেশগুলো কার্বন কর কমানোর প্রস্তাব দিলেও জার্মানি ও স্পেনের মতো দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যমান সংকট কাটাতে ব্রাসেলসে আসন্ন বৈঠকে দেশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সিরাজ চিশতী
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ