ঢাকা নিউজ

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা



ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
ছবি : সংগৃহিত

বিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের বিশেষ মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত আফগানিস্তানে সব ধরনের বিমান হামলা স্থগিত থাকবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে সীমান্তে কোনো ধরনের উস্কানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলে পাকিস্তান পুনরায় সামরিক অভিযানে ফিরতে দ্বিধা করবে না।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে আফগান বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে কথিত পাকিস্তানি বিমান হামলায় নিহতদের গণদাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবারের ওই হামলায় আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও জাতিসংঘ এই সংখ্যা ১৪৩ বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তান অবশ্য নিরাময় কেন্দ্রে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানা ও সামরিক স্থাপনা।

২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট 'উমিদ' নামক ওই হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি দুই প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার বৃষ্টির মধ্যেই শত শত আফগান নাগরিক নিহতদের জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধায় অংশ নেন। দুই দেশের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, স্থায়ী শান্তির পথে এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। ইসলামের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেওয়া এই মানবিক পদক্ষেপটি শেষ পর্যন্ত সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬


ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

বিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের বিশেষ মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত আফগানিস্তানে সব ধরনের বিমান হামলা স্থগিত থাকবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে সীমান্তে কোনো ধরনের উস্কানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলে পাকিস্তান পুনরায় সামরিক অভিযানে ফিরতে দ্বিধা করবে না।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে আফগান বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে কথিত পাকিস্তানি বিমান হামলায় নিহতদের গণদাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবারের ওই হামলায় আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও জাতিসংঘ এই সংখ্যা ১৪৩ বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তান অবশ্য নিরাময় কেন্দ্রে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল কেবল নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানা ও সামরিক স্থাপনা।

২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট 'উমিদ' নামক ওই হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি দুই প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার বৃষ্টির মধ্যেই শত শত আফগান নাগরিক নিহতদের জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধায় অংশ নেন। দুই দেশের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, স্থায়ী শান্তির পথে এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। ইসলামের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেওয়া এই মানবিক পদক্ষেপটি শেষ পর্যন্ত সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সিরাজ চিশতী
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ