ভারত ও রাশিয়া তাদের এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিকস সাপোর্ট’ (রেলোস) কার্যকর করেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সাময়িকভাবে ৩,০০০ পর্যন্ত সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন ও ব্যবহারের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে ভারতের জন্য একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে ভারত তাদের ভূখণ্ডে সীমিত অবস্থানের অনুমতি দিচ্ছে।
দীর্ঘ আট বছরের আলোচনার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ একে অপরের বন্দর, জ্বালানি, মেরামত ও বিমানবন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে। এছাড়া মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়টিও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার এবং এশিয়ায় কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত রাশিয়ার আর্কটিক ও দূরপ্রাচ্য অঞ্চলের বন্দরগুলো ব্যবহারের সুবিধা পাবে, যা উত্তর সমুদ্রপথে দেশটির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভারতের সামরিক কৌশলকে আরও বহুমুখী করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের আগে থেকেই লজিস্টিক চুক্তি থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো সেনা মোতায়েনের সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বমঞ্চে তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। যদিও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট নয়, তবে এই কাঠামোটি ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ভারত ও রাশিয়া তাদের এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিকস সাপোর্ট’ (রেলোস) কার্যকর করেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সাময়িকভাবে ৩,০০০ পর্যন্ত সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন ও ব্যবহারের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে ভারতের জন্য একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীকে ভারত তাদের ভূখণ্ডে সীমিত অবস্থানের অনুমতি দিচ্ছে।
দীর্ঘ আট বছরের আলোচনার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ একে অপরের বন্দর, জ্বালানি, মেরামত ও বিমানবন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে। এছাড়া মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতার বিষয়টিও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার এবং এশিয়ায় কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত রাশিয়ার আর্কটিক ও দূরপ্রাচ্য অঞ্চলের বন্দরগুলো ব্যবহারের সুবিধা পাবে, যা উত্তর সমুদ্রপথে দেশটির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভারতের সামরিক কৌশলকে আরও বহুমুখী করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের আগে থেকেই লজিস্টিক চুক্তি থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো সেনা মোতায়েনের সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বমঞ্চে তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। যদিও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট নয়, তবে এই কাঠামোটি ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন