ঢাকা নিউজ

ইরান ইস্যুতে উভয় সংকটে ট্রাম্প



ইরান ইস্যুতে উভয় সংকটে ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহিত

ইরান ইস্যু নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক কঠিন নীতিগত দোটানায় রয়েছেন। একদিকে সামরিক হামলার হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে তিনি 'উভয় সংকটে' পড়েছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষণের মূল দিকগুলো:

  • নীতিগত দোলাচল: ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, সমঝোতার ১৫টি পয়েন্টে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করায় ট্রাম্পের বক্তব্যের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

  • অর্থনৈতিক সমীকরণ: ট্রাম্পের শান্তিকামী বার্তার পরপরই বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে (সূচক বেড়েছে ১%-এর বেশি) এবং তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ট্রাম্প এখন উত্তেজনা কমানোর (De-escalation) নাটকীয় চেষ্টা করছেন।

  • যুদ্ধ থামানোর চ্যালেঞ্জ: বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, "যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু থামানো কঠিন।" বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতিকে যে চাপে ফেলেছে, তা থেকে বের হওয়া ট্রাম্পের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

  • পরস্পরবিরোধী অবস্থান: ট্রাম্পের একদিকে শান্তির কথা বলা এবং অন্যদিকে হামলার প্রস্তুতি বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী নীতি আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব: ট্রাম্পের এই 'উভয় সংকট' কেবল তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এরই মধ্যে তিনি যুদ্ধের দায়ভার তার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন, যা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেও স্পষ্ট করে তোলে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬


ইরান ইস্যুতে উভয় সংকটে ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরান ইস্যু নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক কঠিন নীতিগত দোটানায় রয়েছেন। একদিকে সামরিক হামলার হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে তিনি 'উভয় সংকটে' পড়েছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষণের মূল দিকগুলো:

  • নীতিগত দোলাচল: ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, সমঝোতার ১৫টি পয়েন্টে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করায় ট্রাম্পের বক্তব্যের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

  • অর্থনৈতিক সমীকরণ: ট্রাম্পের শান্তিকামী বার্তার পরপরই বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে (সূচক বেড়েছে ১%-এর বেশি) এবং তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ট্রাম্প এখন উত্তেজনা কমানোর (De-escalation) নাটকীয় চেষ্টা করছেন।

  • যুদ্ধ থামানোর চ্যালেঞ্জ: বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, "যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু থামানো কঠিন।" বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতিকে যে চাপে ফেলেছে, তা থেকে বের হওয়া ট্রাম্পের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

  • পরস্পরবিরোধী অবস্থান: ট্রাম্পের একদিকে শান্তির কথা বলা এবং অন্যদিকে হামলার প্রস্তুতি বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী নীতি আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব: ট্রাম্পের এই 'উভয় সংকট' কেবল তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এরই মধ্যে তিনি যুদ্ধের দায়ভার তার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন, যা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেও স্পষ্ট করে তোলে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ