বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (IMO)-র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
১. ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজে বাধা নেই: ইরান জানিয়েছে, যেসব দেশ বর্তমান যুদ্ধে লিপ্ত নয় বা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে এই জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে প্রণালি পার হতে হবে।
২. ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ কারা? চিঠিতে ইরান স্পষ্ট করেছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বর্তমান যুদ্ধে যারা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে, তাদের জাহাজগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ক্যাটাগরির কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩. হামলার আশঙ্কায় বিধিনিষেধ: ইরানের দাবি, আগ্রাসী শক্তিগুলো যেন তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য এই জলপথ ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই এই সতর্কতামূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস নিশ্চিত করেছে যে আইএমও-র সব সদস্য এই চিঠির অনুলিপি পেয়েছে।
জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা: প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাস (LNG) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট।
আক্রমণের শিকার জাহাজ: ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: এই নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।
বিশ্লেষণ: ইরানের এই ঘোষণা মূলত একটি কূটনৈতিক চাল। তারা দেখাতে চাচ্ছে যে তারা বিশ্ব বাণিজ্য বন্ধ করতে চায় না, বরং কেবল তাদের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ দেশের সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা ইরানের হাতে থাকায়, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (IMO)-র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
১. ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজে বাধা নেই: ইরান জানিয়েছে, যেসব দেশ বর্তমান যুদ্ধে লিপ্ত নয় বা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে এই জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে প্রণালি পার হতে হবে।
২. ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ কারা? চিঠিতে ইরান স্পষ্ট করেছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বর্তমান যুদ্ধে যারা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে, তাদের জাহাজগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ক্যাটাগরির কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩. হামলার আশঙ্কায় বিধিনিষেধ: ইরানের দাবি, আগ্রাসী শক্তিগুলো যেন তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য এই জলপথ ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই এই সতর্কতামূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস নিশ্চিত করেছে যে আইএমও-র সব সদস্য এই চিঠির অনুলিপি পেয়েছে।
জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা: প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাস (LNG) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট।
আক্রমণের শিকার জাহাজ: ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: এই নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।
বিশ্লেষণ: ইরানের এই ঘোষণা মূলত একটি কূটনৈতিক চাল। তারা দেখাতে চাচ্ছে যে তারা বিশ্ব বাণিজ্য বন্ধ করতে চায় না, বরং কেবল তাদের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ দেশের সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা ইরানের হাতে থাকায়, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন