ঢাকা নিউজ

ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব



ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহিত

চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি কঠোর শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর সূত্রমতে, এই প্রস্তাবটি পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে তেহরানে পাঠানো হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা।


১৫ দফা প্রস্তাবের প্রধান শর্তসমূহ:

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবিত কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে নিচের শর্তগুলো:

১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ: ইরানের অভ্যন্তরে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা। ২. মজুত হস্তান্তর: এ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা সমস্ত ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা। ৩. স্থাপনা ধ্বংস: বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা। ৪. অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি: ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। ৫. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি সর্বদা সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা।


আলোচনার কৌশল ও প্রেক্ষাপট:

  • এক মাসের যুদ্ধবিরতি: যদি ইরান এই ১৫ দফা কাঠামো মেনে নিতে রাজি হয়, তবে উভয় পক্ষ অবিলম্বে এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবে। এই সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা হবে।

  • নেতৃত্বে কুশনার-উইটকফ: আলোচনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জেরেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না

  • ট্রাম্পের দাবি: ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ উপহার’ (সম্ভবত কোনো ছাড়ের প্রস্তাব) পাঠিয়েছে।

শাসন পরিবর্তনের নতুন ব্যাখ্যা: ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব (আয়াতুল্লাহ খামেনি ও লারিজনির মৃত্যুর পর) আগের চেয়ে আলাদা। ট্রাম্পের ভাষায়, "নেতৃত্বের এই পরিবর্তনই আমাদের কাছে আসল শাসন পরিবর্তন, যারা সমস্যা তৈরি করেছিলেন তারা এখন আর নেই।"

বর্তমান সংকট: ইরানের আংশিক অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়ে যায় বলেই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬


ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি কঠোর শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর সূত্রমতে, এই প্রস্তাবটি পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে তেহরানে পাঠানো হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা।


১৫ দফা প্রস্তাবের প্রধান শর্তসমূহ:

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবিত কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে নিচের শর্তগুলো:

১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ: ইরানের অভ্যন্তরে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা। ২. মজুত হস্তান্তর: এ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা সমস্ত ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা। ৩. স্থাপনা ধ্বংস: বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা। ৪. অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি: ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। ৫. হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি সর্বদা সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা।


আলোচনার কৌশল ও প্রেক্ষাপট:

  • এক মাসের যুদ্ধবিরতি: যদি ইরান এই ১৫ দফা কাঠামো মেনে নিতে রাজি হয়, তবে উভয় পক্ষ অবিলম্বে এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবে। এই সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা হবে।

  • নেতৃত্বে কুশনার-উইটকফ: আলোচনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জেরেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না

  • ট্রাম্পের দাবি: ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ উপহার’ (সম্ভবত কোনো ছাড়ের প্রস্তাব) পাঠিয়েছে।

শাসন পরিবর্তনের নতুন ব্যাখ্যা: ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব (আয়াতুল্লাহ খামেনি ও লারিজনির মৃত্যুর পর) আগের চেয়ে আলাদা। ট্রাম্পের ভাষায়, "নেতৃত্বের এই পরিবর্তনই আমাদের কাছে আসল শাসন পরিবর্তন, যারা সমস্যা তৈরি করেছিলেন তারা এখন আর নেই।"

বর্তমান সংকট: ইরানের আংশিক অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়ে যায় বলেই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ