ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে ভারত সরকার। আজ বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত থাকবেন। পররাষ্ট্রসচিব মূলত উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যুদ্ধের বর্তমান ভয়াবহতা এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করবেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিষয়ক সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানও এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে এবং ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়ে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ইরান এই সংকটে ভারতের নিরপেক্ষ ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ওপর আস্থা রেখে নয়াদিল্লিকেও প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পেতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, লেবাননের আকাশসীমায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রতিহতের দাবি করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান মনে করে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের পাশাপাশি ভারতের মতো একটি বিশ্বস্ত শক্তির মধ্যস্থতা এই যুদ্ধ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতাহি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারত এই সংকটে একটি ইতিবাচক ও বিশ্বস্ত ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলে তেহরান বিশ্বাস করে।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে ভারত সরকার। আজ বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত থাকবেন। পররাষ্ট্রসচিব মূলত উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যুদ্ধের বর্তমান ভয়াবহতা এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করবেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিষয়ক সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানও এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে এবং ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়ে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ইরান এই সংকটে ভারতের নিরপেক্ষ ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ওপর আস্থা রেখে নয়াদিল্লিকেও প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পেতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, লেবাননের আকাশসীমায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রতিহতের দাবি করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান মনে করে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের পাশাপাশি ভারতের মতো একটি বিশ্বস্ত শক্তির মধ্যস্থতা এই যুদ্ধ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতাহি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারত এই সংকটে একটি ইতিবাচক ও বিশ্বস্ত ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলে তেহরান বিশ্বাস করে।

আপনার মতামত লিখুন