জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আজ মঙ্গলবার ‘সেলেন’ নামের ওই কার্গো জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে ইরানি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইআরজিসি এক বার্তায় জানিয়েছে, আইনি প্রোটোকল না মানায় জাহাজটিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সেটিকে ঘুরপথে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে তেহরান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এক-পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ ইরান ও পাকিস্তান প্রতিবেশী এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে বর্তমান যুদ্ধ নিরসনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে নিয়োগ দেওয়ার পর এই জাহাজ আটক ও গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও পাকিস্তান আগ্রহের সঙ্গে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছে এবং তেহরানের সাথে আলোচনা শুরু করেছে, তবুও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও কঠোর নিয়ম রক্ষায় কোনো ছাড় দিচ্ছে না ইরান।
অন্যদিকে, ভারতও এই সংকটে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। আজ বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে দিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যেই ভারতের প্রতি তাদের আস্থার কথা জানিয়েছে এবং নয়াদিল্লিকে এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তেহরান বিশ্বাস করে, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঠিক কূটনৈতিক হস্তক্ষেপেই কেবল এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান সম্ভব।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আজ মঙ্গলবার ‘সেলেন’ নামের ওই কার্গো জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে ইরানি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইআরজিসি এক বার্তায় জানিয়েছে, আইনি প্রোটোকল না মানায় জাহাজটিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সেটিকে ঘুরপথে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে তেহরান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এক-পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ ইরান ও পাকিস্তান প্রতিবেশী এবং তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে বর্তমান যুদ্ধ নিরসনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে নিয়োগ দেওয়ার পর এই জাহাজ আটক ও গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও পাকিস্তান আগ্রহের সঙ্গে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছে এবং তেহরানের সাথে আলোচনা শুরু করেছে, তবুও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও কঠোর নিয়ম রক্ষায় কোনো ছাড় দিচ্ছে না ইরান।
অন্যদিকে, ভারতও এই সংকটে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। আজ বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে দিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যেই ভারতের প্রতি তাদের আস্থার কথা জানিয়েছে এবং নয়াদিল্লিকে এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তেহরান বিশ্বাস করে, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঠিক কূটনৈতিক হস্তক্ষেপেই কেবল এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন