উপসাগরীয় দেশগুলোতে পানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই অঞ্চলের দেশগুলোর লবণমুক্তকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্রযুক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে। মুডিজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কুয়েত তার পানীয় জলের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এবং সৌদি আরব ও ওমানও একইভাবে ডিস্যালিনেশনের ওপর টিকে আছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, উপকূলীয় এলাকায় এই প্ল্যান্টগুলোর কেন্দ্রীভূত অবস্থান একটি বড় দুর্বলতা তৈরি করেছে। বাহরাইনে হামলার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে এই অবকাঠামোগুলো কতটা অরক্ষিত। এমনকি ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার হুমকি দিয়েছে। অনেক দেশে মাত্র এক সপ্তাহের পানির মজুদ থাকায় দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিবার, হাসপাতাল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পানি সংকট শুধু জনজীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনকেও সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট চালাতে যেমন প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে, তেমনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কলকারখানা সচল রাখতেও পানির প্রয়োজন হয়। মুডিজ এই পারস্পরিক নির্ভরতাকে একটি 'শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া' হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে।
আর্থিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে এই ঝুঁকির মাত্রা সব দেশে সমান নয়। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেও বাহরাইনের মতো দুর্বল সরকারি অর্থ-ব্যবস্থার দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে বেশি সংবেদনশীল। সামগ্রিকভাবে, উপসাগরীয় অঞ্চলে পানি এখন কেবল একটি মৌলিক চাহিদা নয়, বরং জ্বালানি ও শিল্পের কেন্দ্রে অবস্থানকারী এক কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
উপসাগরীয় দেশগুলোতে পানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই অঞ্চলের দেশগুলোর লবণমুক্তকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্রযুক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে। মুডিজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কুয়েত তার পানীয় জলের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এবং সৌদি আরব ও ওমানও একইভাবে ডিস্যালিনেশনের ওপর টিকে আছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, উপকূলীয় এলাকায় এই প্ল্যান্টগুলোর কেন্দ্রীভূত অবস্থান একটি বড় দুর্বলতা তৈরি করেছে। বাহরাইনে হামলার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে এই অবকাঠামোগুলো কতটা অরক্ষিত। এমনকি ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার হুমকি দিয়েছে। অনেক দেশে মাত্র এক সপ্তাহের পানির মজুদ থাকায় দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিবার, হাসপাতাল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পানি সংকট শুধু জনজীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনকেও সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট চালাতে যেমন প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে, তেমনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কলকারখানা সচল রাখতেও পানির প্রয়োজন হয়। মুডিজ এই পারস্পরিক নির্ভরতাকে একটি 'শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া' হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে।
আর্থিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে এই ঝুঁকির মাত্রা সব দেশে সমান নয়। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেও বাহরাইনের মতো দুর্বল সরকারি অর্থ-ব্যবস্থার দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে বেশি সংবেদনশীল। সামগ্রিকভাবে, উপসাগরীয় অঞ্চলে পানি এখন কেবল একটি মৌলিক চাহিদা নয়, বরং জ্বালানি ও শিল্পের কেন্দ্রে অবস্থানকারী এক কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন