ঢাকা নিউজ

ইরানের ড্রোন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা



ইরানের ড্রোন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নিম্ন-উচ্চতার ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ-আকাশসীমায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। এই সুযোগটিই ইরান কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষক কেলি গ্রিকোর মতে, ইরান জানে তারা সরাসরি আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়, তাই তারা ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ বা ‘ওয়ার অব ডিসরাপশন’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোনগুলো নিচু দিয়ে উড়ে আসায় প্রচলিত রাডারে ধরা পড়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছিল, কিন্তু নিচু দিয়ে ওড়া ড্রোন শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় বিশেষ সেন্সর ও রাডারের ঘাটতি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরান উচ্চমাত্রার মোবাইল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য রুখে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান প্রথাগত যুদ্ধের পথে না গিয়ে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রু পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তিতে ফেলার কৌশল নিয়েছে।

তবে এই বিশেষজ্ঞ মতামতের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তাদের সব সক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এখন তেহরানের আকাশে অবাধে বিচরণ করছে এবং একে একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা এবং প্রশাসনের এই দাবির মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


ইরানের ড্রোন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের নিম্ন-উচ্চতার ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ-আকাশসীমায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। এই সুযোগটিই ইরান কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষক কেলি গ্রিকোর মতে, ইরান জানে তারা সরাসরি আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়, তাই তারা ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ বা ‘ওয়ার অব ডিসরাপশন’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোনগুলো নিচু দিয়ে উড়ে আসায় প্রচলিত রাডারে ধরা পড়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছিল, কিন্তু নিচু দিয়ে ওড়া ড্রোন শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় বিশেষ সেন্সর ও রাডারের ঘাটতি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরান উচ্চমাত্রার মোবাইল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য রুখে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান প্রথাগত যুদ্ধের পথে না গিয়ে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রু পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তিতে ফেলার কৌশল নিয়েছে।

তবে এই বিশেষজ্ঞ মতামতের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তাদের সব সক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এখন তেহরানের আকাশে অবাধে বিচরণ করছে এবং একে একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা এবং প্রশাসনের এই দাবির মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ