ঢাকা নিউজ

আলোচনার টেবিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র: কার অবস্থান বেশি শক্তিশালী?



আলোচনার টেবিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র: কার অবস্থান বেশি শক্তিশালী?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—প্রকৃতপক্ষে কোন পক্ষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে? আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উভয় পক্ষই বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে অনড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনাকে 'গঠনমূলক' দাবি করলেও তেহরান একে সময়ক্ষেপণ ও তেলের দাম কমানোর কৌশল হিসেবে দেখছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্ব আরও আপসহীন হয়ে উঠেছে। পেন্টাগন দাবি করেছে যে হামলায় ইরানের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে, তবে ইরান একের পর এক নির্ভুল পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে নাতাঞ্জ ও সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে ইসরাইলের দিমোনা ও আরদ শহরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ১৮০ জনের বেশি আহত হয়।

ইরানের নতুন লক্ষ্য এখন কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং জব্দ অর্থ ফেরত, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর 'ফি' আদায়ের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইরানের অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তগত করতে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে। যদিও ট্রাম্প বারবার শাসন পরিবর্তনের কথা বলছেন, তবুও পর্দার আড়ালে ১ হাজার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখার প্রস্তাবের মতো ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে।

আলোচনার নেতৃত্ব নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। লারিজানির মতো ঝানু কূটনীতিকদের মৃত্যুর পর ইরান আইআরজিসি-র সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান আপসের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের প্রস্তুতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে, তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ও উভচর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ না ছাড়ে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সামরিক পথে তা পুনর্দখলের চেষ্টা করতে পারে। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বর্তমানে অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


আলোচনার টেবিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র: কার অবস্থান বেশি শক্তিশালী?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—প্রকৃতপক্ষে কোন পক্ষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে? আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উভয় পক্ষই বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে অনড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনাকে 'গঠনমূলক' দাবি করলেও তেহরান একে সময়ক্ষেপণ ও তেলের দাম কমানোর কৌশল হিসেবে দেখছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্ব আরও আপসহীন হয়ে উঠেছে। পেন্টাগন দাবি করেছে যে হামলায় ইরানের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে, তবে ইরান একের পর এক নির্ভুল পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে নাতাঞ্জ ও সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে ইসরাইলের দিমোনা ও আরদ শহরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ১৮০ জনের বেশি আহত হয়।

ইরানের নতুন লক্ষ্য এখন কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং জব্দ অর্থ ফেরত, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর 'ফি' আদায়ের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইরানের অবশিষ্ট ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তগত করতে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে। যদিও ট্রাম্প বারবার শাসন পরিবর্তনের কথা বলছেন, তবুও পর্দার আড়ালে ১ হাজার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখার প্রস্তাবের মতো ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে।

আলোচনার নেতৃত্ব নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। লারিজানির মতো ঝানু কূটনীতিকদের মৃত্যুর পর ইরান আইআরজিসি-র সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান আপসের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের প্রস্তুতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে, তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ও উভচর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ না ছাড়ে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সামরিক পথে তা পুনর্দখলের চেষ্টা করতে পারে। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বর্তমানে অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ