ঢাকা নিউজ

ইরানে স্থল হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল: সাফ না জানিয়ে দিল কুর্দি যোদ্ধারা



ইরানে স্থল হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল: সাফ না জানিয়ে দিল কুর্দি যোদ্ধারা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে আগ্রাসন চালিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে স্বপ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেখেছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান শাসনকাঠামো ভেঙে পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের ব্যবহার করে স্থল অভিযানের যে পরিকল্পনা করেছিল, তা কুর্দিদের সরাসরি প্রত্যাখ্যানের কারণে ভেস্তে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার কুর্দিদের মাধ্যমে ইরানে আক্রমণের ইঙ্গিত দিলেও, প্রভাবশালী কুর্দি কমান্ডাররা স্পষ্ট করেছেন যে তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। পেশমারগা বাহিনীর মেজর-জেনারেল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরওয়ান বারজানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না।

সিরওয়ান বারজানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরান প্রায় ৪৩০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবারও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং ৩০ জন আহত হন। তিনি এই হামলাগুলোকে 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' হিসেবে অভিহিত করলেও বলেন, “আমরা প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করিনি, তবুও কেন প্রতিদিন আমাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে?”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্ররা একে একে ট্রাম্পের পাশ থেকে সরে যাওয়ায় এবং কুর্দিদের অনড় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটনের 'ইরান দখলের' কৌশল এখন খাদের কিনারে। কুর্দিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে কিন্তু প্রতিবেশী ইরানে কোনো আগ্রাসনে অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ নতুন করে জটিল হয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


ইরানে স্থল হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল: সাফ না জানিয়ে দিল কুর্দি যোদ্ধারা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানে আগ্রাসন চালিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে স্বপ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেখেছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান শাসনকাঠামো ভেঙে পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের ব্যবহার করে স্থল অভিযানের যে পরিকল্পনা করেছিল, তা কুর্দিদের সরাসরি প্রত্যাখ্যানের কারণে ভেস্তে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার কুর্দিদের মাধ্যমে ইরানে আক্রমণের ইঙ্গিত দিলেও, প্রভাবশালী কুর্দি কমান্ডাররা স্পষ্ট করেছেন যে তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। পেশমারগা বাহিনীর মেজর-জেনারেল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরওয়ান বারজানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না।

সিরওয়ান বারজানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরান প্রায় ৪৩০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবারও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং ৩০ জন আহত হন। তিনি এই হামলাগুলোকে 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' হিসেবে অভিহিত করলেও বলেন, “আমরা প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করিনি, তবুও কেন প্রতিদিন আমাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে?”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্ররা একে একে ট্রাম্পের পাশ থেকে সরে যাওয়ায় এবং কুর্দিদের অনড় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটনের 'ইরান দখলের' কৌশল এখন খাদের কিনারে। কুর্দিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে কিন্তু প্রতিবেশী ইরানে কোনো আগ্রাসনে অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ নতুন করে জটিল হয়ে পড়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ