জীবন অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং মানুষের প্রতিটি নিঃশ্বাসই তাকে আখিরাতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দুনিয়ার ব্যস্ততা, স্বপ্ন আর মোহে ডুবে থাকা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমত্তা হলো সুযোগ থাকা অবস্থাতেই নেক আমলে দ্রুত হওয়া, তওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেকে প্রস্তুত করা। একজন মুমিনকে সুস্থ, স্বচ্ছল ও কর্মক্ষম থাকা অবস্থাতেই নেক আমলে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ (সা.) উম্মতকে সাতটি ভয়াবহ পরিস্থিতি আসার আগেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
তিরমিজি শরিফের ২৩০৬ নম্বর হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এমন সাতটি বিষয় আসার আগে নেক আমলে দ্রুত হতে বলেছেন, যা মানুষের আমলের সুযোগ ও শক্তি কেড়ে নেয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো এমন চরম দারিদ্র্য যা মানুষকে সবকিছু ভুলিয়ে দেয় এবং দ্বিতীয়টি হলো এমন সম্পদ যা মানুষকে অবাধ্য ও অহংকারী করে তোলে। এছাড়া মানুষের ইবাদতের শক্তি কেড়ে নেওয়া রোগব্যাধি এবং জ্ঞান ও শারীরিক শক্তি হ্রাসকারী বার্ধক্য আসার আগেই আমল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তওবা ও আমলের সুযোগ কেড়ে নেওয়া আকস্মিক মৃত্যু, মানবজাতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও প্রতীক্ষিত অনিষ্ট দাজ্জালের ফিতনা এবং চূড়ান্ত ও অধিক তিক্ততর বাস্তবতা কিয়ামত আসার আগেই নেক আমলে মগ্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সাতটি বাস্তবতার কারণে একজন মুমিনের জন্য সুস্থতা ও যৌবনের সময়কে কাজে লাগানো জরুরি, কারণ অভাব যেমন মানুষকে ইবাদত থেকে গাফেল করে, তেমনি সম্পদও অহংকারের ফাঁদে ফেলে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। মৃত্যু কখন কীভাবে আসবে তা কেউ জানে না এবং অনেক মানুষ ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করেও হঠাৎ মৃত্যুর কারণে সুযোগ পায় না। মানুষ প্রায়ই ভাবে 'সময় হলে তওবা করব' কিংবা 'বৃদ্ধ হলে ইবাদত বাড়াব', অথচ আগামীকাল আদৌ জীবনে আসবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুরা লুকমানের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে।
এই হাদিস থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হলো, নেক আমলে মোটেও দেরি করা উচিত নয় এবং সুস্থতা, যৌবন ও অবসরকে আল্লাহর বড় নিয়ামত মনে করে কাজে লাগানো জরুরি। দুনিয়ার সম্পদ ও সমস্যা উভয়ই মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে, তাই মৃত্যুর আগে তওবা ও নেক আমলের সুযোগ লুফে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। দাজ্জালের ফিতনা ও কিয়ামতের ভয়াবহতার প্রতি সর্বদা সচেতন থেকে প্রতিদিনকে আখিরাতের প্রস্তুতির শেষ সুযোগ মনে করে জীবন পরিচালনা করা উচিত। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের একটি অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ মৃত্যু সব পরিকল্পনা থামিয়ে দিতে পারে বিধায় আজকের আমল আগামীকালের জন্য ফেলে না রেখে সুযোগ থাকা অবস্থাতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
জীবন অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং মানুষের প্রতিটি নিঃশ্বাসই তাকে আখিরাতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দুনিয়ার ব্যস্ততা, স্বপ্ন আর মোহে ডুবে থাকা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমত্তা হলো সুযোগ থাকা অবস্থাতেই নেক আমলে দ্রুত হওয়া, তওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেকে প্রস্তুত করা। একজন মুমিনকে সুস্থ, স্বচ্ছল ও কর্মক্ষম থাকা অবস্থাতেই নেক আমলে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহাম্মদ (সা.) উম্মতকে সাতটি ভয়াবহ পরিস্থিতি আসার আগেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
তিরমিজি শরিফের ২৩০৬ নম্বর হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এমন সাতটি বিষয় আসার আগে নেক আমলে দ্রুত হতে বলেছেন, যা মানুষের আমলের সুযোগ ও শক্তি কেড়ে নেয়। এর মধ্যে প্রথমটি হলো এমন চরম দারিদ্র্য যা মানুষকে সবকিছু ভুলিয়ে দেয় এবং দ্বিতীয়টি হলো এমন সম্পদ যা মানুষকে অবাধ্য ও অহংকারী করে তোলে। এছাড়া মানুষের ইবাদতের শক্তি কেড়ে নেওয়া রোগব্যাধি এবং জ্ঞান ও শারীরিক শক্তি হ্রাসকারী বার্ধক্য আসার আগেই আমল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তওবা ও আমলের সুযোগ কেড়ে নেওয়া আকস্মিক মৃত্যু, মানবজাতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও প্রতীক্ষিত অনিষ্ট দাজ্জালের ফিতনা এবং চূড়ান্ত ও অধিক তিক্ততর বাস্তবতা কিয়ামত আসার আগেই নেক আমলে মগ্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সাতটি বাস্তবতার কারণে একজন মুমিনের জন্য সুস্থতা ও যৌবনের সময়কে কাজে লাগানো জরুরি, কারণ অভাব যেমন মানুষকে ইবাদত থেকে গাফেল করে, তেমনি সম্পদও অহংকারের ফাঁদে ফেলে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। মৃত্যু কখন কীভাবে আসবে তা কেউ জানে না এবং অনেক মানুষ ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করেও হঠাৎ মৃত্যুর কারণে সুযোগ পায় না। মানুষ প্রায়ই ভাবে 'সময় হলে তওবা করব' কিংবা 'বৃদ্ধ হলে ইবাদত বাড়াব', অথচ আগামীকাল আদৌ জীবনে আসবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুরা লুকমানের ৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে।
এই হাদিস থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হলো, নেক আমলে মোটেও দেরি করা উচিত নয় এবং সুস্থতা, যৌবন ও অবসরকে আল্লাহর বড় নিয়ামত মনে করে কাজে লাগানো জরুরি। দুনিয়ার সম্পদ ও সমস্যা উভয়ই মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে, তাই মৃত্যুর আগে তওবা ও নেক আমলের সুযোগ লুফে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। দাজ্জালের ফিতনা ও কিয়ামতের ভয়াবহতার প্রতি সর্বদা সচেতন থেকে প্রতিদিনকে আখিরাতের প্রস্তুতির শেষ সুযোগ মনে করে জীবন পরিচালনা করা উচিত। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের একটি অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ মৃত্যু সব পরিকল্পনা থামিয়ে দিতে পারে বিধায় আজকের আমল আগামীকালের জন্য ফেলে না রেখে সুযোগ থাকা অবস্থাতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন