মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দাবি করেছে যে তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তারা সফলভাবে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
এই দাবির সমর্থনে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আকাশে উড়ন্ত একটি জেটকে আঘাতের পর নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, এর আগেও ইরান এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি করেছিল। কিন্তু চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় আট হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিমান ওড়ানো হলেও একটিও ভূপাতিত হয়নি।
এদিকে, ইরান আরেকটি পৃথক দাবীতে জানিয়েছে যে তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানি আকাশসীমায় অভিযানের সময় বিমানটি গোলাগুলির শিকার হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এফ-৩৫ বিমানটির জরুরি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা এটিকে সরাসরি ইরানের হামলা বলে স্বীকার করেননি, ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌ সক্ষমতা এবং পারমাণবিক অবকাঠামো দুর্বল করা। এর ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনা এখনও চলমান এবং তা “ফলপ্রসূ” হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, চুক্তি না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে, তবে আলোচনা চলছে এবং অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে এবং বাস্তব অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন হচ্ছে।

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দাবি করেছে যে তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তারা সফলভাবে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
এই দাবির সমর্থনে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আকাশে উড়ন্ত একটি জেটকে আঘাতের পর নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, এর আগেও ইরান এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি করেছিল। কিন্তু চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় আট হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিমান ওড়ানো হলেও একটিও ভূপাতিত হয়নি।
এদিকে, ইরান আরেকটি পৃথক দাবীতে জানিয়েছে যে তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানি আকাশসীমায় অভিযানের সময় বিমানটি গোলাগুলির শিকার হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এফ-৩৫ বিমানটির জরুরি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা এটিকে সরাসরি ইরানের হামলা বলে স্বীকার করেননি, ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, নৌ সক্ষমতা এবং পারমাণবিক অবকাঠামো দুর্বল করা। এর ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনা এখনও চলমান এবং তা “ফলপ্রসূ” হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, চুক্তি না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে, তবে আলোচনা চলছে এবং অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে এবং বাস্তব অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন