ঢাকা নিউজ

রাজশাহীতে পেঁয়াজের পানির দর: কেজি মাত্র ৫ টাকা



রাজশাহীতে পেঁয়াজের পানির দর: কেজি মাত্র ৫ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজশাহীর বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দরপতন ঘটেছে। পরিবহণ সংকটের কারণে ব্যাপারীরা রাজধানীসহ বড় মোকামগুলোতে পেঁয়াজ পাঠাতে না পারায় স্থানীয় বাজারে এর দাম তলানিতে ঠেকেছে। শুক্রবার রাজশাহীর বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা কেজি প্রতি দাঁড়ায় মাত্র পৌনে ৪ থেকে ৫ টাকা। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও চাষিরা প্রতি মণ পেঁয়াজ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন।

চাষিদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে উঠেছে, কারণ এক মণ পেঁয়াজ ফলাতে তাদের খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। বর্তমানে বাড়ি থেকে হাটে পেঁয়াজ নিতে এবং খাজনা দিতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা, ফলে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে চাষির পকেটে থাকছে মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। বাগমারার চাষি আফসার আলী জানান, গত ১৫ বছরেও এত কম দামে পেঁয়াজ বিক্রির কোনো রেকর্ড নেই। লোকসান কমাতে অনেক চাষি পেঁয়াজ বিক্রি না করে বাড়িতে জমিয়ে রাখছেন, কিন্তু সেখানেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হলেও জ্বালানি সংকটে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাহেরপুর, ঝলমলিয়া ও কেশরহাটের মতো বড় মোকামগুলোতে পেঁয়াজের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভরা মৌসুমে পচনশীল এই পণ্যের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং ফড়িয়াদের কারসাজিতে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতার জানিয়েছেন, কৃষি পণ্য চালানে নিয়োজিত পরিবহণগুলো যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি পায়, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত সমাধান না এলে উত্তরের পেঁয়াজ চাষিরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬


রাজশাহীতে পেঁয়াজের পানির দর: কেজি মাত্র ৫ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজশাহীর বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দরপতন ঘটেছে। পরিবহণ সংকটের কারণে ব্যাপারীরা রাজধানীসহ বড় মোকামগুলোতে পেঁয়াজ পাঠাতে না পারায় স্থানীয় বাজারে এর দাম তলানিতে ঠেকেছে। শুক্রবার রাজশাহীর বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা কেজি প্রতি দাঁড়ায় মাত্র পৌনে ৪ থেকে ৫ টাকা। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও চাষিরা প্রতি মণ পেঁয়াজ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন।

চাষিদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে উঠেছে, কারণ এক মণ পেঁয়াজ ফলাতে তাদের খরচ হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। বর্তমানে বাড়ি থেকে হাটে পেঁয়াজ নিতে এবং খাজনা দিতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা, ফলে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে চাষির পকেটে থাকছে মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। বাগমারার চাষি আফসার আলী জানান, গত ১৫ বছরেও এত কম দামে পেঁয়াজ বিক্রির কোনো রেকর্ড নেই। লোকসান কমাতে অনেক চাষি পেঁয়াজ বিক্রি না করে বাড়িতে জমিয়ে রাখছেন, কিন্তু সেখানেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হলেও জ্বালানি সংকটে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাহেরপুর, ঝলমলিয়া ও কেশরহাটের মতো বড় মোকামগুলোতে পেঁয়াজের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভরা মৌসুমে পচনশীল এই পণ্যের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং ফড়িয়াদের কারসাজিতে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতার জানিয়েছেন, কৃষি পণ্য চালানে নিয়োজিত পরিবহণগুলো যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি পায়, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত সমাধান না এলে উত্তরের পেঁয়াজ চাষিরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ