ঢাকা নিউজ

ট্রাম্পের পিছু হটা: কৌশল নাকি বাজারের ভয়?



ট্রাম্পের পিছু হটা: কৌশল নাকি বাজারের ভয়?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা ভিন্ন চোখে দেখছেন। এই পিছু হটা কোনো মানবিক কারণে নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে তেলের বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির জটিল সমীকরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই যুদ্ধকে লাশের সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং তেলের ব্যারেল এবং শেয়ার বাজারের সূচক দিয়ে পরিমাপ করছেন।

গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিশ্ব এক ভয়াবহ সংঘাতের অপেক্ষায় ছিল, যেখানে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, হামলা হলে তার প্রভাব শুধু তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি করিডোর ও পারস্য উপসাগর জ্বলবে। ইরান এই যুদ্ধকে 'সিস্টেমিক' বা পদ্ধতিগত বলে অভিহিত করার পর, যা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে, ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো দমে যেতে দেখা গেল।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ হওয়ার সময় যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়লেও সোমবার সকালে বাজার খোলার আগেই সুর নরম হয়ে আসে। ইরানি পর্যবেক্ষকরা একে একটি অর্থনীতি-কেন্দ্রিক 'মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন' হিসেবে দেখছেন। যখনই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে ধস নামার উপক্রম হয়েছে, তখনই ট্রাম্প আলোচনার কথা বলে সময় চেয়েছেন। তার কাছে একটি সমাজের জীবনের চেয়ে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই বিরতি মানেই শান্তি নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত চাল হতে পারে। বাজার শান্ত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও সুসংহত করার জন্য এই সময়টুকুকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও রণতরী ওই অঞ্চলে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং স্থগিতাদেশের কথা বলা হলেও কিছু অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ১০ দিনের এই সময়সীমা আসলে কোনো সমাধান নয়, বরং বড় কোনো সংঘাতের আগের এক ছমছমে নীরবতা মাত্র।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬


ট্রাম্পের পিছু হটা: কৌশল নাকি বাজারের ভয়?

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা ভিন্ন চোখে দেখছেন। এই পিছু হটা কোনো মানবিক কারণে নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে তেলের বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির জটিল সমীকরণ। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই যুদ্ধকে লাশের সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং তেলের ব্যারেল এবং শেয়ার বাজারের সূচক দিয়ে পরিমাপ করছেন।

গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিশ্ব এক ভয়াবহ সংঘাতের অপেক্ষায় ছিল, যেখানে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, হামলা হলে তার প্রভাব শুধু তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি করিডোর ও পারস্য উপসাগর জ্বলবে। ইরান এই যুদ্ধকে 'সিস্টেমিক' বা পদ্ধতিগত বলে অভিহিত করার পর, যা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে, ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো দমে যেতে দেখা গেল।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ হওয়ার সময় যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়লেও সোমবার সকালে বাজার খোলার আগেই সুর নরম হয়ে আসে। ইরানি পর্যবেক্ষকরা একে একটি অর্থনীতি-কেন্দ্রিক 'মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন' হিসেবে দেখছেন। যখনই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে ধস নামার উপক্রম হয়েছে, তখনই ট্রাম্প আলোচনার কথা বলে সময় চেয়েছেন। তার কাছে একটি সমাজের জীবনের চেয়ে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই বিরতি মানেই শান্তি নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত চাল হতে পারে। বাজার শান্ত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও সুসংহত করার জন্য এই সময়টুকুকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও রণতরী ওই অঞ্চলে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং স্থগিতাদেশের কথা বলা হলেও কিছু অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ১০ দিনের এই সময়সীমা আসলে কোনো সমাধান নয়, বরং বড় কোনো সংঘাতের আগের এক ছমছমে নীরবতা মাত্র।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ